উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ এশিয়ান গেমসের (Asian Video games 2026) মঞ্চে আবারও দেখা গেল ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সম্পর্কের সেই চেনা বরফ জমে থাকার ছবি। এশিয়া কাপের আবহাওয়া এশিয়ান গেমসেও বজায় রইল। ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। কিন্তু পদক বিতরণী অনুষ্ঠান ও তার পরবর্তী ছবি তোলার পর্বে পাক খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটারদের দূরত্ব বজায় রাখার ঘটনাটি ফের একবার ক্রীড়ামহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। অবশ্য এর আগে জল্পনা ছিল, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভি পুরস্কার দিতে আসলেন ভারত তা গ্রহণ করবে কি না। তবে আদতে সেই পরিস্থিতি তৈরিই হয়নি, কারণ নকভি মাঠে উপস্থিতই ছিলেন না।
এশিয়ান গেমসের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর মাঠেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানা, রিচা ঘোষেরা। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ছবি তোলেন তাঁরা। এরপর শুরু হয় পদক বিতরণী অনুষ্ঠান। পোডিয়ামে সবার আগে ব্রোঞ্জ পদক নিতে ওঠেন পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা। এর পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের রুপোর পদক দেওয়া হয়। আর সব শেষে সোনা জয়ী ভারতীয় ক্রিকেটারেরা পোডিয়ামে ওঠেন। নিশিন শহরের মেয়র এবং পুলিশ সুপারসহ বেশ কয়েকজন আধিকারিক উপস্থিত থেকে ভারতীয় দলের গলায় সোনার পদক পরিয়ে দেন।
পুরস্কার বিতরণীর পর ঐতিহ্য অনুযায়ী গ্রুপ ছবি তোলার সময় ঘটে বিপত্তি। তিন দলের ক্রিকেটারদের একসঙ্গে দাঁড়াতে বলা হলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের হাবভাব দেখেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাঁরা পাক ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াতে বা বসতে একেবারেই রাজি নন। নীচের সারিতে বসার সময় ভারতীয় দলের বাঁ দিকে থাকা রাধা যাদবের পাশে শ্রীলঙ্কার দুই ক্রিকেটার এসে বসেন, এবং তাঁদের পরেই বসেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। অর্থাৎ, ভারতীয়দের ঠিক পাশেই শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা দূরত্ব বজায় রাখেন। অন্যদিকে, উপরের সারিতে দাঁড়ানোর সময় ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ঠিক পাশেই এসে দাঁড়ান পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। কিন্তু ছবি তোলার সময় হরমনপ্রীতকে ডান দিকের সতীর্থের দিকে ঝুঁকে দাঁড়াতে দেখা যায়, যাতে পাক অধিনায়কের সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে। ছবি তোলার কাজ শেষ হতেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলালেও ভারতীয় দলের কোনো সদস্যই পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি এবং পাক দলও দ্রুত পোডিয়াম ছেড়ে চলে যায়।
যদিও এই এশিয়ান গেমসেই টেবিল টেনিসের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে পরাজিত করার পর সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়, সিন্ড্রেলা দাস, হরমিত দেশাইরা পাক খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন এবং সেখানে কোনো অপ্রীতিকর দূরত্ব দেখা যায়নি। কিন্তু ক্রিকেটের ময়দানে এক বছর আগে পুরুষদের এশিয়া কাপে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, মহিলা ক্রিকেটের মঞ্চেও সেই একই ছবি বজায় রইল।

