উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত ভাজাভুজি খাওয়ার ফলে প্রায়শই হজমের গোলযোগ, গ্যাস কিংবা পেটফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধ বা পথ্য খাওয়ার আগে ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, পেট ভালো রাখতে এবং গ্যাস্ট্রিকের কষ্ট কমাতে প্রতিদিন একটি করে পাকা কলা (Ripe Banana) খাওয়া দারুণ কার্যকরী হতে পারে।
কেন নিয়মিত পাকা কলা খাবেন?
- প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড: পাকা কলা পাকস্থলির জন্য প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে। কলায় থাকা উপাদান পাকস্থলির ভেতরের দেওয়ালে সুরক্ষাকবচ তৈরি করে, যা অতিরিক্ত অ্যাসিডের প্রভাব দূর করে বুক জ্বালা কমায়।
- পটাশিয়ামের গুণাবলি: কলা পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস। অতিরিক্ত অ্যাসিডের কারণে পেটে তৈরি হওয়া অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- পেকটিন ও দ্রবণীয় ফাইবার: কলাতে প্রচুর পরিমাণে ‘পেকটিন’ নামক দ্রবণীয় ফাইবার থাকে। এটি পরিপাকতন্ত্রে খাবারের চলাচল মসৃণ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে স্বাভাবিক হজমে সাহায্য করে।
- সহজে হজমযোগ্য ও শক্তিপ্রদায়ী: পেটের গণ্ডগোল বা ডায়ারিয়ার পর পাকস্থলি দুর্বল হয়ে পড়লে কলা দ্রুত শক্তি জোগায়, কারণ এটি অত্যন্ত সহজে হজম হয়।
- প্রোবায়োটিক উপাদান: পাকা কলায় থাকা উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটিরিয়ার (Intestine Microbiome) খাবার হিসেবে কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
জরুরি কিছু টিপস
গ্যাস্ট্রিকের কষ্ট দূর করতে সব সময় উপযুক্ত পরিমাণে পাকা কলা খাওয়া উচিত। কাঁচা বা অতিরিক্ত কচি কলা কিছু ক্ষেত্রে গ্যাসের কারণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন পরিমিত মাত্রায় (১টি করে) পাকা কলা খেলে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ ও সবল থাকবে।

