সোমনাথ দত্ত, মালবাজার: শ্রমিকদের মজুরি বাকি এক মাসের, স্থায়ী কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না তিন মাস ধরে। কবে হাতে আসবে টাকা, বুঝতে পারছেন না কেউই। বকেয়ার দাবিতে ইতিমধ্যে গেট আটকে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কর্মীরা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে পুজোর মুখে দুশ্চিন্তায় মালবাজার পুরসভার কর্মীরা (Mal Municipality)। পুজোর সময় তাঁরা ধর্মঘটের রাস্তায় হাঁটলে, পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এখানে শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ১৩৭ জন, অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় দেড়শো। ১৫ ওয়ার্ডের পুরসভার আয় অনুপাতে কর্মীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে জর্জরিত মাল পুরসভা। পাশাপাশি, ঠিকাদারদের বকেয়া বিল, পুরসভার একাধিক স্থায়ী কর্মী বিচার প্রক্রিয়ার আওতাধীন, আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং বিভিন্ন ইস্যুতে আদালতের রায়ে পুরসভা এখন অনেকটাই বেসামাল অবস্থায়। ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত হয়েছে সিট। তদন্তকারীরা দফায় দফায় পুরসভার কাছে বিভিন্ন নথি চেয়ে পাঠাচ্ছেন। আর সেই নথি তৈরিতেও বিভিন্ন সময়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে পুরকর্মীদের। তার ওপরে অস্থায়ী পুরকর্মীদের তিন মাসের বেতন ও শ্রমিকদের এক মাসের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আর ক’দিন পর চলতি মাসও যুক্ত হবে বকেয়ার তালিকায়।
পুরসভার অস্থায়ী কর্মী মানস দেব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় কাজ করছি। গত কয়েক বছর ধরেই বেতন সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সামনেই পুজো। বেতন ও বোনাস কী হবে জানি না। পুরসভার বেতনেই সংসার চলে। বেতন বকেয়া থাকায় পরিবার নিয়ে সমস্যায় রয়েছি।’ অস্থায়ী কর্মী দীপঙ্কর ঘটক বলেন, ‘নিয়মিত ওয়ার্ডে কাজ করেও বেতন অনিয়মিত। বেতন সমস্যা কবে স্বাভাবিক হবে জানা নেই।’ পুরসভার অস্থায়ী কর্মী এবং শ্রমিকদের অনিয়মিত বেতন প্রসঙ্গে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মিলন ছেত্রী বলেন, ‘অস্থায়ী কর্মী সহ শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে। পুরসভার আয়ের মূল স্তম্ভ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর আদায়। কর আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে। কর আদায়ে বকেয়াকারীদের চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। কর সংগ্রহে পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্যাম্প করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। পুজোর আগেই বকেয়া বেতন প্রদান সহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
পুরসভার অস্থায়ী কর্মী ও শ্রমিকদের বেতন বকেয়াকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। বিজেপির মাল টাউন মণ্ডল সভাপতি নবীন সাহা বলেন, ‘অদূরদর্শিতার অভাবেই বেতন সমস্যা দানা বেঁধেছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বেতন সমস্যার সমাধান করা যেত।’ সিপিএম নেতা রাজা দত্ত বলেন, ‘আমরা পুর বোর্ডের ক্ষমতায় থাকাকালীন অস্থায়ী কর্মী ও শ্রমিকদের বেতন নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া হত। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, যা কখনও কাম্য নয়।’
পুজোর আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস ইস্যুতে আশঙ্কার মেঘ দানা বাঁধছে ক্রমশই। পুজোর আগে পরিস্থিতির বদল ঘটবে কি না, এখন সেটাই দেখার।

