জাতীয় ক্রীড়া দিবসে দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি করে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তা, কেবল পদক জেতার জন্য নয়, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে দেশের যুবশক্তিকে একত্রিত করে উন্নত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
‘খেলো ইন্ডিয়া সংবাদ’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া তাঁর ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, “১৫ আগস্ট আমি লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে ভারতের খেলাধুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম। খেলার অর্থ শুধুই পদক জেতা নয়। এর নেপথ্যে আরও গভীর ভাবনা রয়েছে।” তাঁর কথায়, দেশের যুবসমাজের শক্তিকে খেলাধুলার মাধ্যমে একত্রিত করাই লক্ষ্য। মোদির কথায়, “ভারতের তরুণ প্রজন্মের শক্তিকে খেলাধুলার মাধ্যমে একত্রিত করতে হবে। তার সাহায্যে ভারতের উন্নতি করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আমরা এগোচ্ছি।”
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যও একই অনুষ্ঠানে যুবসমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণদেরই বিকশিত ভারতের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসাবে দেখেন। ২০২৩ সালে তৈরি ‘মাই ভারত’ প্ল্যাটফর্মে ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। ভারতে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আয়োজক হিসাবে আহমেদাবাদের নাম সামনে রেখে সেই প্রস্তুতিতে ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা খুঁজে বার করার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদির সংযোজন, “২০৩৬ সালে যদি আমাদের ভালো ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে হয়, তাহলে এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। ৫, ১০, ১৫ বছর বয়সিদের দিকে নজর দিতে হবে। মেয়েদের দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে।” শুধু বড় শহর নয়, প্রতিভা খুঁজে আনতে হবে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন শহর, গ্রাম এবং স্কুলে প্রতিভা-অন্বেষণ শিবিরের মাধ্যমে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করে তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
VIDEO | PM Narendra Modi (@narendramodi) participates in Khelo India Dialogue by way of video conferencing.
PM Narendra Modi says, “Right now on this programme, athletes from throughout India and lots of distinguished individuals from sports activities are current. You already know that after two days, on August 29,… pic.twitter.com/xPWDBY1RBM
— Press Belief of India (@PTI_News) August 27, 2026
এর আগে অলিম্পিকে পদকের সংখ্যা বাড়াতে ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ চালু করেছিল কেন্দ্র। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মোদির মতে, তার সুফলও মিলেছে। তিনি আরও বলেছেন, কেবল পরিচিত খেলায় আটকে থাকলে চলবে না। তাঁর বক্তব্য, যে সব খেলায় ভারত ইতিমধ্যেই শক্তিশালী, শুধু সেগুলির উপর নির্ভর করলে পদক-তালিকায় বড় লাফ দেওয়া সম্ভব নয়। “অলিম্পিকে এতগুলি খেলা রয়েছে। ভারতীয় দল তার অর্ধেক খেলাতেও অংশ নেয় না। অর্থাৎ পদক জেতার বড় একটি অংশে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করছি না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১২ সালের অলিম্পিকে ভারত মাত্র ১৩টি খেলায় অংশ নিয়েছিল। ফলে বহু ইভেন্টে দেশের কোনও প্রতিনিধিত্বই ছিল না। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকেও ৩২টি খেলার মধ্যে ভারত অংশ নিয়েছিল ১৬টিতে।
নতুন খেলায় প্রতিভা অন্বেষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে সার্ফিং এবং স্পোর্ট ক্লাইম্বিংয়ের মতো খেলাকেও উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর যুক্তি, ভারতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও বিপুল যুবসমাজকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন খেলায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি করা সম্ভব। ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের সম্ভাবনাকেও তাই প্রস্তুতির মঞ্চ হিসাবে দেখছে কেন্দ্র। সেই মঞ্চ থেকেই ২০৩৬-এর অলিম্পিকের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, প্রতিভা এবং ক্রীড়া-সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
