রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরের বাসিন্দাদের আবেগ আর বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে যে স্টেশনকে ঘিরে, এবার সেই রায়গঞ্জ রেলস্টেশনের (Raiganj Station) পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার খোলনলচে বদলে যেতে চলেছে। রেলের বিশেষ উদ্যোগে স্টেশনটিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিকীকরণের কাজও জোরকদমে শুরু হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনে ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে স্টেশন চত্বরের চিত্রটাই বদলে যাবে।
কী কী সেই কাজ? রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টেশনে বসানো হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক কোচ ইন্ডিকেটর সিস্টেম। এর ফলে ট্রেনের কোন বগিটি ঠিক কোথায় এসে দাঁড়াবে, তা যাত্রীরা সহজেই জানতে পারবেন। একই সঙ্গে বসছে ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম, যা ট্রেনের আগমন ও প্রস্থানের ঘোষণা আরও স্পষ্ট করে তুলবে। পাশাপাশি থাকছে ডিজিটাল ট্রেন ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, যার মাধ্যমে ট্রেনের বর্তমান স্থিতি এবং সময়সূচি এক পলকেই দেখে নিতে পারবেন যাত্রীরা। পরিকাঠামোর এই আধুনিকীকরণের কাজে আনুমানিক ৪ মাস সময় লাগবে। কাজ শেষ হলে রায়গঞ্জ স্টেশনে ট্রেন ধরা অনেক সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে।
এনএফ রেলওয়ে জোনাল ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য অঙ্কুশ মৈত্র বলেন, ‘রায়গঞ্জ রেলস্টেশনের সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে সবকিছুই হবে। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কোচ ইন্ডিকেটর, ডিসপ্লে ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট ও ডিজিটাল ট্রেন ইনফরমেশন ডিসপ্লের কাজ শুরু হয়েছে। আশাকরি, চার মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) রেল উন্নয়ন মঞ্চের তরফে কাটিহারের ডিআরএম-এর কাছে কয়েক দফা দাবিপত্র পেশ করা হয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল উন্নয়ন মঞ্চের সদস্যদের মতে, স্টেশনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি অবশ্যই প্রয়োজন, তবে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। মঞ্চের সদস্য সুরজিৎ সরকার বলেন, ‘রায়গঞ্জ রেলস্টেশনের দুটো প্ল্যাটফর্মেই ইলেক্ট্রনিক কোচ ইন্ডিকেটর সিস্টেম, ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড, ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম থাকা জরুরি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘দুটি প্ল্যাটফর্মে লিফটের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আর সেটি অবশ্যই নতুন ওভারব্রিজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে ওয়েটিং রুম অবশ্যই প্রয়োজন। সেই সঙ্গে বসার জায়গা, শৌচালয় এবং স্নানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
রায়গঞ্জ রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কিছুদিনের জন্য ডিসপ্লে বোর্ড লাগানো হয়েছিল। তারপর কোনও অজ্ঞাত কারণে তা খুলে ফেলা হয়। অথচ এই প্ল্যাটফর্মেই কলকাতা, বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি দিল্লিগামী গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলি থামে এবং শয়ে-শয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন। ডিসপ্লে বোর্ড না থাকায় যাত্রীদের প্রতিদিন চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বারবার জিজ্ঞাসা করতে হয় নির্দিষ্ট বগি কোথায় এসে থামবে। সঠিক তথ্য না পেয়ে মাঝেমধ্যেই যাত্রীদের ব্যাগপত্র নিয়ে প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছোটাছুটি করতে হয়। রবিবার রাতেই এই ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এমনই পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাধব দাস। তিনি কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে যাবেন, কিন্তু রাধিকাপুর-কলকাতা ট্রেনের বি-২ বগি কোথায় দাঁড়াবে বুঝতে না পেরে ব্যাগ নিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরতে হচ্ছিল। একই রকম সমস্যার কথা জানিয়েছেন দীপা দাস, রতন দত্ত, দেবদাস সাহারাও।
অন্যদিকে, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই বললেই চলে। অথচ কুলিক এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন সেখানেই এসে থামে। ট্রেন ঢুকলেই যাত্রীরা নির্দিষ্ট বগিতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি ও দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন। আবার ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে টিকিট কাউন্টার থাকায় যাত্রীদের টিকিট কেটে ফুটব্রিজ পার হয়ে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসতে হয়। একইভাবে ট্রেন থেকে নামার পর ফুটব্রিজ পার হয়ে ১ নম্বরে এসে তবেই টোটো বা অন্য যানবাহনে চাপতে হচ্ছে যাত্রীদের।
কুলিক এক্সপ্রেসে রায়গঞ্জ থেকে মালদায় নিয়মিত যাতায়াত করেন গোপাল দাস। তিনি বলছিলেন, ‘লোকাল বা এক্সপ্রেস ট্রেন ধরতে হলে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট কেটে ২ নম্বরে যেতে হয়। এর ফলে বিশেষ করে বয়স্কদের ভীষণ অসুবিধা হয়।’

