রায়গঞ্জ: নতুন শৌচালয় পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল (Raiganj bathroom rip-off)। রায়গঞ্জ শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর আরতি মণ্ডলের ভাই সনোদ সরকার সহ মোট আটজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার বিকেলে রায়গঞ্জ থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্যামলী শীল সহ প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী বাসিন্দা। সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সেই সময়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আরতি মণ্ডলের ভাই সনোদ সরকার এবং তার দলবল এলাকার বহু মানুষের কাছে গিয়ে নতুন টয়লেট বা শৌচালয় তৈরির সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই নামেই প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ১০০০ টাকা করে আদায় করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কেউ কোনো নতুন শৌচালয় পাননি বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগী মহিলাদের আরও অভিযোগ, টাকা তোলার পাশাপাশি অভিযুক্তরা বেশ কয়েকজন মহিলাকে অন্য কারো বাড়ির ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের শৌচালয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলে তা রায়গঞ্জ পৌরসভায় জমা দিয়েছিল। কিন্তু তার বিনিময়ে সরকারি কোনো অনুদান বা টাকা উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে শৌচালয় বা টাকা কোনোটিই না পেয়ে এদিন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা টাকা ফেরত চাইতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিশু সরকার, সনদ সরকার ও তাদের সহযোগীদের বাড়িতে যান। অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে উল্টে ওই তৃণমূল নেতারা মহিলাদের নানা ধরনের হুমকি ও ভয় দেখান।
এরপর আর কোনো উপায় না পেয়ে সমস্ত মহিলারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরাসরি রায়গঞ্জ থানার দ্বারস্থ হন এবং থানায় সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার আইসি সন্দীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

