রায়গঞ্জ: রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ভুয়ো পরিচয়ে প্রায় ৭০ বছরের প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘রায়গঞ্জ বন্দর যুব নাট্য সংস্থা’-র মহড়াকক্ষ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক নাট্যমঞ্চের মহড়াকক্ষের পুনরুদ্ধারের দাবিতে এবং নিরাপত্তার দাবিতে রায়গঞ্জ (Raiganj) থানার পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর দ্বারস্থ হয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা। ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বন্দর এলাকার বিশিষ্ট শিল্পানুরাগী ব্যক্তিত্ব ও যাত্রীশিল্পী প্রয়াত কমলাপদ সেন এই মহড়াকক্ষটি সংস্থার জন্য দান করেছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কক্ষে নিয়মিত নাটকের মহড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়া এবং প্রজন্মের হাতবদল ঘটায় দানসংক্রান্ত মূল নথিপত্র বর্তমানে নেই। পাশাপাশি, তৎকালীন অধিকাংশ শিল্পী প্রয়াত হওয়ায় সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু রাজনৈতিক মদতপুষ্ট জমি মাফিয়া ও দুষ্কৃতী জোর করে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ।
সংস্থার সম্পাদক তুষারকান্তি দাস আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘‘এটি শুধুমাত্র একটি ঘর নয়, রায়গঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য অঙ্গ। ১৯৫৭ সালে ‘সাধক রামপ্রসাদ’ পালার মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রার সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন যাত্রাপালা মঞ্চস্থ করে আমরা একাধিক জেলায় শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অর্জন করেছি।’’ তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা বর্তমানে মহড়াকক্ষের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন এবং শিল্পীদের নানা অছিলায় ভয় দেখাচ্ছেন। ফলে নাটকের মহড়া ও স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার মুখে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও কক্ষের দখল ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্রশান্ত সাহা দাবি করেন, ‘প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আমরা ওই বিল্ডিংয়ের প্রকৃত ওয়ারিশদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে জায়গাটি কিনেছি। আমার বাড়ির পাশেই এই ভবনটি অবস্থিত। অভিযোগকারী তুষারকান্তি দাস কম দামে বিল্ডিংটি কিনতে চেয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন উলটো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন এবং পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করছেন।’
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার (Raiganj Police Station) এক পুলিশ আধিকারিক জানান, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি ছাড়া পেলেও ওই বিল্ডিংয়ে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে। কোথাও কোনও রকম বাধার সৃষ্টি হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই পক্ষকেই থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, বন্দর যুব নাট্য সংস্থার সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে সমস্ত বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রশাসন ইতিমধ্যেই কী পদক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষায় শেষপর্যন্ত প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রায়গঞ্জবাসী।

