বহরমপুর: দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহার করা নামিদামী ব্র্যান্ডের মশলার আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল বিষাক্ত ভেজাল মশলা (Pretend Spices Manufacturing unit) তৈরির কারবার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বড়সড়ো অভিযান চালিয়ে সাগরদিঘি এলাকা থেকে একটি বিশাল ভেজাল মশলা তৈরির কারখানার হদিস পেল জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ। সোমবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশি অভিযানে সিল করে দেওয়া হয়েছে ওই কারখানা। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুঁড়ো মশলা এবং খাবারে ব্যবহারের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ক্ষতিকারক ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার সহ একাধিক বিষাক্ত রাসায়নিক পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে সাগরদিঘির (Sagardighi) কাবিলপুর এবং বরতলা এলাকার দুটি পৃথক জায়গায় অত্যন্ত গোপনে এই কারবার চালাচ্ছিল চক্রটি। নামিদামী কোম্পানির মোড়ক ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছিল। লঙ্কা গুঁড়ো এবং হলুদ গুঁড়োর মতো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মশলার সঙ্গে মেশানো হচ্ছিল ক্ষতিকারক কৃত্রিম রং ও বিভিন্ন রাসায়নিক পাউডার, যা মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। গোপন মারফত এই খবর পাওয়ার পরই জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার একটি বিশেষ দল কারখানায় হানা দেয় এবং হাতেনাতে পাকড়াও করে পুরো চক্রটিকে।
এই ঘটনার প্রধান পান্ডা বা মূল অভিযুক্ত সমায়ুন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ (Police)। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে এবং এই ভেজাল মশলাগুলি রাজ্যের ঠিক কোন কোন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। সোমবারই ধৃতকে পুলিশি হেপাজতের আবেদন জানিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্র এই অসাধু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

