রায়গঞ্জ: বর্ণপরিচয়ের রাখালের গল্প কিংবা বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মাইক টাইসন বনাম ইভান হোলিফিল্ডের ঐতিহাসিক ডুয়েলের ঘটনার কথা অনেকেরই জানা। কিন্তু বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে তুচ্ছ ছাগল ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একেবারে বাস্তবে ঘটল এমন এক অবিশ্বাস্য কান্ড। প্রতিবেশী বধূর কামড়ে কান ছিঁড়ে যাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলার রায়গঞ্জ (Raiganj) থানার বামনগ্রাম সংলগ্ন নারায়ণপুর গ্রামে। তবে শুধু কান কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়াই নয়, কাপের মধ্যে করে সেই কাটা কান নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Raiganj Authorities Medical School And Hospital) হল অস্ত্রোপচার।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ। অভিযোগকারিণীর বাড়ির সামনে একটি ছাগল দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আচমকাই সেই ছাগল দড়ির ফাঁস কেটে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে ধান খেয়ে নেয়। আর এই সামান্য বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বচসা থেকে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, প্রতিবেশী বধূ কুলসুম খাতুন সহ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চড়াও হয়ে কোহিনুর বেগমকে চুলের মুঠি ধরে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। এখানেই শেষ নয়, ক্ষিপ্ত কুলসুম খাতুন আচমকাই কোহিনুর বেগমের বাম কান কামড়ে ছিড়ে নেন। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জখম বধূ কোহিনুর বেগম।
এরপর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসিকতা দেখিয়ে কাটা কানের অংশটি একটি কাপে করে সংগ্রহ করেন এবং দ্রুত জখম বধূকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেলে ভর্তি করেন। রোগীর গুরুত্ব বুঝে হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং দ্রুত তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই জটিল অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন নাক, কান, গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ তথা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর বিকে মন্ডল, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এসপি দাস, অনুতোষ মাইতি এবং সোমনাথ বাগ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে বোঝা যাবে অপারেশন কতটা সফল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কাটা কান আগের জায়গায় জোড়া লেগে যেতে পারে।
এদিকে, এই কান্ডের পর জখম বধূ কোহিনুর বেগম রায়গঞ্জ থানায় প্রতিবেশী বধূ কুলসুম খাতুন সহ মোট তিন জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

