আকাশমণ্ডলীতে যিনি সেনাপতি, তিনি নাকি পরাক্রমের প্রতিভূ। বৈদিক জ্যোতিষ বলছে, জীবনের গতি, রক্তের তেজ, অনমনীয় সাহস এবং আত্মবিশ্বাসের রাশ ধরে রাখেন মঙ্গল। ভূমি ও ভ্রাতৃসুখের কারকও এই রক্তিম গ্রহ। কিন্তু জন্মছকে যদি এই মঙ্গলই তেজ হারায়? তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে জীবনের প্রতিটি পদে পদে।

আরও পড়ুন:
মঙ্গলের তেজ কমলে কী কী সংকেত মিলবে?
কোষ্ঠীতে লাল গ্রহ বলহীন হলে মানুষের আত্মবিশ্বাসে আচমকা চিড় ধরে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় ঘুন ধরে যায়। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মাথা গরম, অকারণ চণ্ডাল রাগ আর কাজের জায়গায় পদে পদে বাধা— এ সবই নিস্তেজ মঙ্গলের অশনি সংকেত। শুধু তা-ই নয়, জমি-জায়গা বা সম্পত্তি নিয়ে আইনি বিবাদ এবং ঘনঘন দুর্ঘটনার কবলে পড়াও দুর্বল মঙ্গলের লক্ষণ হতে পারে।

শুভত্ব ফেরাবেন কীভাবে?
জ্যোতিষ মতে, গ্রহের শক্তি ফেরাতে কিছু পালনীয় আচার জীবনের গতি বদলে দিতে পারে।(১) মঙ্গলবারে নিয়ম করে হনুমান চালিশা, বজরং বান কিংবা সুন্দরকাণ্ড পাঠ করুন। পবনপুত্রের কৃপায় গ্রহের তেজ শুভত্বে রূপান্তরিত হয়।
(২) শ্রদ্ধার সঙ্গে মঙ্গলের বীজমন্ত্র— ‘ওঁ ক্রাঁ ক্রীঁ ক্রৌঁ সঃ ভৌমায় নমঃ’ পাঠ করুন। প্রতি মঙ্গলবার অন্তত ১০৮ বার বা প্রতিদিন নিয়ম করে জপ করলে শুভ ফল মেলে।
(৩) মঙ্গলবার লাল মুসুর ডাল, গুড়, তামা কিংবা লাল পোশাক অভাবী মানুষের হাতে তুলে দিন। সাধ্যমতো দান গ্রহদোষ কাটাতে সাহায্য করে।
(৪) মঙ্গলবারে বাঁদরকে গুড়-ছোলা খাওয়ানো বা দুস্থ মানুষকে অন্নদান করা অত্যন্ত পুণ্যকর্ম।
(৫) স্কন্দ ষষ্ঠী বা যে কোনও মঙ্গলবারে বীরত্বের প্রতীক দেব সেনাপতি কার্তিকের আরাধনা করলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
(৬) অহেতুক ক্রোধ সংবরণ, সঠিক সময়ে কাজ সম্পাদন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা হল মঙ্গলকে জাগ্রত করার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
প্রয়োজনে কোষ্ঠী বিচার করিয়ে রত্নবিদদের পরামর্শে লাল প্রবাল ধারণ করা যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, গ্রহের অবস্থান ব্যক্তিগত ছকভেদে বদলায়। তাই অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
