দিনহাটা: বিল্ডিং প্ল্যান পাশ জালিয়াতি মামলায় মঙ্গলবার চারদিনের পুলিশ হেপাজত শেষে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহকে (Udayan Guha) দিনহাটা মহকুমা আদালতে (Dinhata Courtroom) তোলা হয়। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে বিচারক আরও আটদিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৯ জুলাই তাঁকে পুনরায় আদালতে পেশ করা হবে।
বিচারক উদয়নের বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ও সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁকে কোচবিহার জেলা সংশোধনাগারে রাখা হবে নাকি পুনরায় বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত জেল কর্তৃপক্ষের উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে খবর।
উদয়নের আইনজীবী অশোক দাস বলেন, ‘বিল্ডিং প্ল্যান পাশ জালিয়াতি মামলায় আজ শুনানি ছিল। আমরা জামিনের আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর না করে আটদিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।’ অন্যদিকে সরকারি পক্ষের আইনজীবী সঞ্জয় বর্মন জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উদয়ন গুহকে আগামী ২৯ জুলাই ফের আদালতে তোলা হবে।
এর আগে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ১৪ দিন কাটিয়েছেন উদয়ন। সেখানে তাঁর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার, পরিস্রুত পানীয় জল, চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং কমোডের ব্যবস্থা করা হলেও চৌকির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এবার তিনি চৌকির দাবিও জানিয়েছেন বলে সংশোধনাগার সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন কলকাতার ফুলবাগান এলাকার নিজস্ব ফ্ল্যাট থেকে উদয়নকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে দিনহাটায় নিয়ে এসে ১৮ জুন প্রথমবার দিনহাটা মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। প্রথমে আবাস প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তী সময়ে একের পর এক মামলায় তাঁর নাম জড়ায়। শিশুমঙ্গল কাণ্ডের দুর্নীতি, বিল্ডিং প্ল্যান পাশ জালিয়াতি মামলায় বর্তমানে তদন্তের মুখোমুখি তিনি।
গ্রেপ্তারের (Arrest) পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৩৪ দিন তিনি কাটিয়েছেন হেপাজতে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ দিন জেল হেপাজতে এবং ১৫ দিন পুলিশ হেপাজতে।
একসময় রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে সরকারি গাড়ি, নিরাপত্তা বলয় এবং প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেই কাটত তাঁর দিন। রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই উদয়ন গুহকেই এখন অন্যান্য অভিযুক্তদের মতো প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। আদালত, পুলিশ হেপাজত ও সংশোধনাগারের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তাঁর দৈনন্দিন জীবন। মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনযাত্রায় এই নাটকীয় পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই জেলার রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

