দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: পাহাড় থেকে ডুয়ার্সের জঙ্গলে পর্যটন আটকে—এবার এমন সংজ্ঞার পরিবর্তন ঘটাতে চায় রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। সেই লক্ষ্যেই রায়গঞ্জের ট্যুরিস্ট লজকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিল পর্যটন দপ্তর (Tourism Division)। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেলে রায়গঞ্জ ট্যুরিস্ট লজকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে বলে সোমবার জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। রায়গঞ্জে (Raiganj) জেলা শাসকের দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে শংকর (Shankar Ghosh) বলেন, ‘পিপিপি মডেলে ট্যুরিস্ট লজকে সংস্কার ও উন্নত করে তোলার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুলিক পক্ষীনিবাস উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। তাই কুলিক পক্ষীনিবাসকেও সাজিয়ে তোলা হবে। এর জন্য বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে ডিপিআর তৈরি করতে বলা হয়েছে। এরপরই অর্থ বরাদ্দ করা হবে।’
দীর্ঘ বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রায়গঞ্জ ট্যুরিস্ট লজের পরিকাঠামোর একাংশ বেহাল। ঘরের দেওয়াল ও মেঝেতে ময়লা-ধুলো জমে থাকার পাশাপাশি বেশ কিছু সরঞ্জামও পুরোনো হয়ে গিয়েছে। ঘরের আলো, আসবাবপত্র এবং টেলিভিশন সেট নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ফলে দিন দিন পর্যটকদের থাকার ক্ষেত্রে আগ্রহ কমছে। পরিকাঠামোর উন্নয়ন না ঘটালে যে ট্যুরিস্ট লজ নিয়ে পর্যটন আগ্রহ বাড়বে না, তা জানেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর। সে কারণেই পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। পিপিপি মডেলে উন্নতমানের থাকার ব্যবস্থা, পরিষেবা এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি। শংকর বলেন, ‘রাজ্যের যে সমস্ত পর্যটনকেন্দ্র আছে, সেগুলিকে নিয়ে জেলাওয়ারড়ি ম্যাপ তৈরি করা হবে। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। বছরের ৩৬৫ দিনই যাতে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটক থাকেন, তার জন্য এমন পরিকল্পনা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দেওয়া হচ্ছে।’
উত্তরবঙ্গের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কুলিক পক্ষীনিবাস। প্রতিবছর শীতের মরশুমে দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এখানে আসেন। ফলে কুলিককে কেন্দ্র করে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পর্যটনমন্ত্রীর ঘোষণার পর এবার ট্যুরিস্ট লজের পাশাপাশি পক্ষীনিবাস নিয়েও আশার আলো দেখছেন রায়গঞ্জবাসী। এদিন জেলা শাসকের দপ্তরের বিবেকানন্দ সভাগৃহে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর।

