বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: রাজ্যে সরকার বদলের পরই প্রশাসনিক দপ্তরগুলিতে তৎপরতা স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক পুরনো মামলা ফের খতিয়ে দেখা শুরু করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। সেই তালিকার প্রথম দিকেই রয়েছে তৃণমূল (TMC) নেতাদের জমি দখল, বাড়ি দখল, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা ও খুন সহ একাধিক মামলা। এই আবহেই জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ (Raiganj) পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের জেলা সম্পাদক ভোলা পালের বিরুদ্ধে একাধিক খুনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি তৃণমূলের একাধিক পদ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি পেশায় ঠিকাদার। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে পুরনো মামলা ফের চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
রায়গঞ্জ শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অর্ণব মন্ডল ওরফে বান্টির বিরুদ্ধে পপ মজুমদারকে পিটিয়ে খুন সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জাল লটারি, পুকুর ভরাট, জলা ভরাট সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাকেও খুঁজছে পুলিশ।
২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন দাস ও তার ছেলে সানকিং দাসের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক দুষ্কৃতীমূলক ক্রিয়া-কলাপের অভিযোগ। মানুষের জমি দখল, পুকুর ভরাট, জলাশয় ভরাট, বিজেপি কর্মীদের ঘর ছাড়া করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সেই সমস্ত মামলাও খতিয়ে দেখছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। এর পাশাপাশি এক নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর নয়ন দাসের বিরুদ্ধে জমি দখল, জলাশয় ভরাট, নিরীহ মানুষদের ওপর অত্যাচার করে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তিনিও বর্তমানে পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম অধিকারীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, বিজেপি কর্মীদের বাড়িছাড়া করে তাদের বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে অসীম অধিকারী রায়গঞ্জ শহর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে অনেকের অনুমান, গ্রেপ্তারি এড়াতে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন এই সব অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের একাংশ। এই বিষয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, “যে সমস্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হবে দ্রুত তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।”
যদিও তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা দাপুটে নেতা ভোলা পালের বক্তব্য,“আমি কোনো প্রমোটিং-এর সঙ্গে যুক্ত নই। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত খুনের অভিযোগ ছিল, সেগুলি বেকসুর খালাস হয়ে গিয়েছে।” ২০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূলের কাউন্সিলর তপন দাস বলেন, “আমার ও আমার ছেলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা ঠিক নয়। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নই।”
