শিবশংকর সূত্রধর, দেওয়ানহাট: কাটমানি ফেরতের দাবিতে দেওয়ানহাট (Dewanhat) গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধানের বাড়ির সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন গ্রামবাসীরা। প্রধান কাকলি বর্মন রায়ের নেতৃত্বে স্থানীয় তৃণমূলের (TMC) নেতারা বাংলার আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে ১০, কারও কাছ থেকে ২০, এমনকি কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদল হতেই এবার সেই টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও অভিযুক্ত প্রধানের দাবি, তিনি নিজে কারও কাছ থেকে কোনও টাকা নেননি। এই প্রসঙ্গে কাকলি বর্মন রায় বলেন, ‘আমি ২ বারের প্রধান। কারও কাছ থেকে কখনও টাকাপয়সা নিইনি। তবে আমার অবর্তমানে যদি কেউ আমার নামে নিয়ে থাকে, তাহলে তাদের ডেকে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’
রাজ্যে তৃণমূলের শাসন শেষ হতেই বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির বাড়ির সামনে এই ইস্যুতে বিক্ষোভ চলছে। শনিবারই দিনহাটার (Dinhata) পুঁটিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের জড়াবাড়ি এলাকায় উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর রায় বর্মনের বাড়ির সামনে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার সকাল থেকে দেওয়ানহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়। যদিও সেই সময় প্রধান কাকলি বর্মন রায় বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাপ্রসঙ্গে এলাকার বাসিন্দা বিশ্বনাথ বর্মনের অভিযোগ, ‘ঘরের টাকা পাওয়ার আগেই আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা পাওয়ার পর আরও ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমি নিজে প্রধানের কাছে মোট ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমি সরকারি ঘর ঠিকমতো বানাতেই পারিনি। আমি এখন টাকা ফেরত চাই।’ একই অভিযোগ তুলেছেন এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারাও। দ্রুত এই কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়া না হলে ফের আন্দোলনে নামা হবে বলেও জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
