রায়গঞ্জ: আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা বানচাল করল বিএসএফ (BSF)। জওয়ানদের আত্মরক্ষার্থে চালানো গুলিতে এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতীর মৃত্যু হয়েছে এবং হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্য দুই বাংলাদেশি নাগরিককে। রবিবার ধৃতদের রায়গঞ্জ (Raiganj) মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ কালিয়াগঞ্জ সীমান্ত সংলগ্ন ৩৩৩/এমপি নম্বর বর্ডার পিলারের কাছে। ওই রাতে ৬-৭ জন বাংলাদেশি দুষ্কৃতী বাঁশের মই নিয়ে কাঁটাতার টপকে ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালায়। বিএসএফ জওয়ানরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে, দুষ্কৃতীরা ধারালো দা নিয়ে কর্তব্যরত জওয়ানদের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ নন-লেথাল পিএজি (PAG) রাউন্ড ফায়ার করে।
বিএসএফের গুলিতে আশাদুল হক (৩৩) নামে এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতী গুরুতর জখম হয়। তার বাড়ি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার ইন্দ্রাইল গ্রামে। জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। রবিবার রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ ও পুলিশের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে ওই দেহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনার দরুন ঘটনাস্থল থেকে উদা চন্দ্র রায় (৩৫) ও মহম্মদ মুস্তাকিন (৩৮) নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিএসএফ। ধৃতদের বাড়িও বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার ইন্দ্রোইল এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বাঁশের মই ও একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়েছে।
কালিয়াগঞ্জ থানায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯(১)/১৩২/১৮৯(২)/১৮৯(৪)/২২৪/৩(৫) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট ২০২৫-এর ২১ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতের সরকারি আইনজীবী অতনু দাস জানান, এ দিন ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

