উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রবিবার স্পষ্ট করে দিল, আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না দলের সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের তরফে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে লড়বেন সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগর উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী হচ্ছেন রবিউল আলম চৌধুরী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঠিক একদিন আগেই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চাইলে তারা ওই কেন্দ্রে কোনও প্রার্থী দেবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ওই কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতে ফের বিধানসভায় ফিরে আসার আহ্বানও জানিয়েছিলেন বিদ্রোহীরা। তবে সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দল নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর ফলে গত ১৫ বছরে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাইরে থাকতে চলেছেন মমতা। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে তিনি বিধানসভায় পা রাখেন। এরপর ২০১৬ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ২০২১ সালের উপনির্বাচনেও ভবানীপুর থেকেই জয়ী হন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা। এর আগে ২০২১ সালেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছেই হারতে হয়েছিল তাঁকে। ২০২৬ সালে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি কেন্দ্রেই জয়লাভ করেন। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন (#Bypoll2026) অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।
অন্যদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখনও মেটেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই দলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের অধিকার দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর দুই শিবিরের বক্তব্য শোনার পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে অতিরিক্ত নথিপত্র তলব করেছে কমিশন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে দলের রাশ কার হাতে থাকবে, সেই বিতর্কের এখনও কোনও সমাধান হয়নি।

