রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের (Raiganj) চাপদুয়ারে এক চরম অমানবিক ঘটনার পর্দাফাঁস করল উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। একটি খাদ্য উৎপাদনকেন্দ্রে বন্দি অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হওয়া শিশু সহ একাধিক বন্ধকি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। যৌথ অভিযানে উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে অন্তত ১২ জন নাবালক শ্রমিক রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে (Youngster Labor rescued)।
মূলত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়ামাত্রই অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট (AHTU)-এর নেতৃত্বে এই বড়সড়ো অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট (DCPO), শিশু কল্যাণ কমিটি (CWC), পুলিশ, শ্রম ও স্বাস্থ্য দপ্তর। পাশাপাশি একটি স্থানীয় ও একটি ঝাড়খণ্ডের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও যৌথভাবে সাহায্য করে। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের একাংশ ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলার বাসিন্দা।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, চাপদুয়ারের ওই খাদ্য উৎপাদনকেন্দ্রে কেক, বিস্কুট ও পাউরুটি তৈরির নামে নাবালকদের দিয়ে ভারী ময়দার বস্তা বহন, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার ওভেনে কাজ করানো হত। এমনকি দেওয়া হত না কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, কাজের যোগদানের সময় শ্রমিকদের পরিবারকে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল। বদলে কড়া নজরদারিতে রাখা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, অতিরিক্ত সময় কাজ করানো এবং ন্যূনতম মজুরিও না দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সকল শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। নাবালকদের দ্রুত সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে জেলা প্রশাসন। শ্রম আইন ও বন্ধকি শ্রম প্রতিরোধ আইনে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

