উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বেলঘরিয়ার ঐতিহাসিক আদ্যাপীঠ মন্দিরে (Adyapeath Mandir) বিশেষ পুজো ও আরতি সম্পন্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ আদ্যাপীঠে পৌঁছালে তাঁকে প্রসাদী মালা পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান আশ্রমের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। সেখানে বিশ্বশান্তি কামনায় পুজো দেওয়ার পাশাপাশি তিনি আশ্রমের গোশালায় গো-সেবা করেন এবং নবনির্মিত মূল ফটক ও ভক্তদের সেবায় একটি নতুন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার উদ্বোধন করেন।
মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু। সমাজ থেকে অনীতি ও ‘পাপ’ দূর করতে মানুষকে গীতা পড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কলকাতা যেমন সংস্কৃতির পীঠস্থান, তেমনই এটি বড় আধ্যাত্মিক রাজধানী। আরজি করের (RG Kar Case) মতো মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনা থেকে সমাজকে দূরে রাখতে মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জাগরণ অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও যোগ করেন, গেরুয়া রং কোনো রাজনৈতিক রং নয়, এটি কৃচ্ছসাধন ও ত্যাগের প্রতীক।
আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত ও শ্মশানের অনিয়ম নিয়েও মারাত্মক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিহত চিকিৎসকের মায়ের লিখিত আবেদনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ১৯৫২ সালের ‘স্পেশাল কমিশন অ্যাক্ট’-এর আওতায় সমগ্র ঘটনার উচ্চপর্যায়ের পুনর্তদন্ত হওয়া উচিত।
ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য প্রক্রিয়ায় চরম আইনি গাফিলতির দাবি করে তিনি বলেন, “দাহকার্যের ক্রমানুসারে ৩ নম্বরে থাকা নাম রাতারাতি ১ নম্বর করে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়। শ্মশানের নিয়মমাফিক খরচ কিংবা পরিবারের নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর ছাড়াই বেআইনিভাবে সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছিল।” এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রুজু করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

