Raiganj | পুকুর ভরাট নিয়ে শুভেন্দুর দ্বারস্থ, পরিদর্শনে এসে ইঙ্গিত সাংসদের

ব্লগ/BLOG
Spread the love


রাহুল দেব, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের (Raiganj) পুকুর ভরাট ইস্যুতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। বুধবার দুপুরে রায়গঞ্জের একাধিক বুজিয়ে ফেলা পুকুর দেখতে গেলেন সাংসদ, বিধায়ক ও সরকারি আমলারা। এলাকাবাসীর তরফে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর এ ব্যাপারে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিগত সরকারের আমলে পুকুর ভরাটে যাঁরা মদত দিয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলে এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পাল। রায়গঞ্জের বিদ্রোহী মোড় লাগোয়া বক্সিবাড়ির পুকুর, উকিলপাড়ার বেসরকারি অনুষ্ঠান ভবন লাগোয়া পুকুর, সৎসঙ্গ আশ্রম সংলগ্ন পুকুর এবং পশ্চিম বীরনগরের বিলবাড়ির পুকুর পরিদর্শন করেন সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পাল, বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, হেমতাবাদের বিধায়ক হরিপদ বর্মন, জেলা শাসক অভিজিৎ শেভালে তুকারাম, পুলিশ সুপার সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ সহ একাধিক সরকারি আমলা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্তিক বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে এই পুকুরগুলো ভরাট হয়েছিল। সবটাই প্রশাসনের চোখের সামনে ঘটেছে। সেই সময়ের রায়গঞ্জ থানার আইসি এই পুকুর ভরাটে মদত দিয়েছিলেন। পুনরায় পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা অভিযোগ করব। যে যে আধিকারিক ও পুলিশের মদতে পুকুরগুলো ভরাট হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই সুরে কৌশিক বলেন, ‘তৃণমূলের (TMC) আমলে পুকুরের (Pond) চরিত্র বদল করে দেওয়া হয়েছে। পুনরায় সেই পুকুর খনন করা হবে মানুষের স্বার্থে।’ এদিকে উকিলপাড়া এলাকার পুকুরটি একজন চিকিৎসক বুজিয়ে ফেলেছেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানে নার্সিংহোম তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে পুরসভার কাউন্সিলার থেকে বিধায়ক পর্যন্ত অনেকেই সেই পুকুরের চরিত্র পরিবর্তন থেকে শুরু করে ভরাট করা পর্যন্ত জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের তরফে এদিন সেখানে নির্মাণকাজ বন্ধ করে রাখার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রায়গঞ্জের বিদ্রোহী মোড় লাগোয়া বক্সিবাড়ির পুকুর ভরাট ইস্যুতে বছরখানেক আগে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর (তৎকালীন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী ও তৎকালীন উপ পুরপ্রশাসক অরিন্দম সরকার) দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসে।

আবার রায়গঞ্জের সৎসঙ্গ মন্দির লাগোয়া বিশালাকার পুকুরও ভরাট করা হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর এলাকাবাসী ওই পুকুর ভরাটে রায়গঞ্জ থানায় এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলার পায়েল সাহা মণ্ডল ও তাঁর স্বামী সহ আরও একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। পাশাপাশি পশ্চিম বীরনগরের বিলবাড়ির পুকুর বোজানোর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একাধিকবার সরব হলেও কোনও লাভ হয়নি। তবে এদিনের পরিদর্শনের পর শহরবাসী আশায় বুক বাঁধছেন। উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা কল্যাণী রজক বলেছেন, ‘শতাব্দীপ্রাচীন এই পুকুর ভরাট করা হয়েছে। আমরা চাই এটা যাতে পুকুরই থাকে। পরিদর্শনের পর আমরা আশাবাদী যে ফের পুকুর খোঁড়া হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *