রায়গঞ্জ: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরে বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হল। রবিবার রায়গঞ্জ শহরের ঘড়ি মোড় এলাকায় ফিতে কেটে এই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী।
এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক (SDO), রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু মুখার্জি-সহ পৌর প্রশাসনের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা।
এক নজরে রায়গঞ্জের নতুন জলপ্রকল্প
মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, এই প্রকল্পের কাজ বহু বছর আগে শুরু হলেও তা অসম্পূর্ণ ছিল। বর্তমান পুরবোর্ডের উদ্যোগে সেই কাজ অবশেষে আলোর মুখ দেখল।
- উপভোক্তা সংখ্যা: প্রথম পর্যায়ে শহরের প্রায় ২০,০০০ পরিবার এই পরিশ্রুত পানীয় জল পাবেন। বাকি ১৪ হাজার পরিবারের জন্যও অর্থ বরাদ্দ (Sanction) হয়ে গেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের বাড়িতেও জল পৌঁছে যাবে।
- পরিকাঠামো: জল সরবরাহের জন্য শহরে মোট ৮টি জলাধার (রিজার্ভার) তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ওভারহেড এবং ৪টি আন্ডারগ্রাউন্ড।
- সরবরাহের সময়: প্রতিদিন সকাল ৭:৩০ থেকে ৮:৩০ এবং বিকেল ৪:০০ থেকে ৫:০০ পর্যন্ত জল দেওয়া হবে। মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আরও একবার জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
- খরচ ও মিটার: আপাতত নাগরিকদের থেকে কোনো চার্জ ধার্য করা হচ্ছে না। তবে জলের ব্যবহার মাপতে প্রতিটি সংযোগে মিটার লাগানো থাকছে।
“জলই জীবন, অপচয় করবেন না”
মঞ্চ থেকে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে জল সংরক্ষণের বিশেষ বার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “জলই জীবন। আমাদের জল প্রচুর আছে ঠিকই, কিন্তু তা বলে অপচয় করার মতো জল নেই। আপনারা দয়া করে পানীয় জলের অপচয় করবেন না।”
বেআইনি পুকুর ভরাট নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি
এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই শহরের অন্যতম বড় সমস্যা ‘বেআইনি পুকুর ভরাট’ নিয়েও মুখ খোলেন কৌশিক চৌধুরী। কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান:
- বিতর্কিত পুকুরগুলিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি করে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। যারা পুকুর ভরাট করে বহুতল তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের সেই কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেন, “বিগত দিনে যারা পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে বোর্ড চালিয়েছেন, তারা উন্নয়নের বদলে শুধুই রাজনীতি করেছেন। আমরা উন্নয়ন নিয়ে কোনো রাজনীতি চাই না।”
- যেসব জলাশয় ইতিমধ্যেই ভরাট করে নার্সিংহোম বা অন্য কোনো বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP), ভূমি সংস্কার আধিকারিক (DLRO), মহকুমা শাসক এবং সাংসদকে নিয়ে যৌথভাবে এই বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের জলকষ্ট মিটতে চলায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া রায়গঞ্জ শহরবাসীর মধ্যে।

