উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠা ধ্বংসস্তূপের মাঝে এক চিলতে আশা! বিড়ালের ডাক ভেবে ধ্বংসস্তূপ সরাতেই উদ্ধারকর্মীদের সামনে যা এল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। এভাবেই নেপালে প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যার (Nepal Flood) দুদিন পর অলৌকিক কায়দায় বেঁচে ফিরল পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যা (Youngster)। বর্তমানে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট্ট মানিশা ইতিমধ্যেই তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছে।
Hats off to the Rescue Staff Nepal 🇳🇵! They discovered one other little woman underneath the rubble after the devastating flash flood and rescued her. Fortunately, the woman survived.#FloodRescue #SouthAsia #NepalFloodNews pic.twitter.com/GC2GNqg46m
— Shahid Rao (@S_Rao4U) August 30, 2026
নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জু খাত্রি জানান, ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া রাসুয়া জেলার সিয়াব্রুবেসি এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। ঠিক সেই সময়ই ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে একটি ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পান তাঁরা। প্রথমে তাঁদের মনে হয়েছিল, কোনো বিড়াল বুঝি আটকে পড়ে আছে।
এরপর সেই ধ্বংসাবশেষ সরাতেই তাঁদের চোখ কপালে ওঠে— বিড়াল নয়, কাদা-মাটি আর পাথরের নিচে নিস্পন্দ হয়ে পড়ে রয়েছে পাঁচ বছরের মানিশা। টানা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনা হয় (Rescue)।
উদ্ধার করার সময় শিশুটির শরীর প্রায় নড়ছিল না বললেই চলে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তৎক্ষণাৎ হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব না হওয়ায়, জওয়ানরা তাকে নিজেদের শিবিরে নিয়ে যান। সেখানে জল ও সামান্য সেদ্ধ ভাতের মাড় খাইয়ে তার চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করা হয়।
এরপর শনিবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনা হেলিকপ্টারে করে তাকে সোজা কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালের শিশু জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মানিশার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং সে সুস্থ হয়ে উঠছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই খুদের পরিবার ও উদ্ধারকারী দলের কাছে এ যেন এক পরম পাওয়া।

