রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: পাহাড়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা অতিভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ক্রমাগত বর্ষণে পাহাড়ের ছোট-বড় ঝোরা বা পাহাড়ি ঝরনাগুলি ফুলেফেঁপে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার ধোপিখোলা এবং পাগলাঝোরায় ঝোরার ভয়ংকর রূপ দেখে এলাকায় আতঙ্ক দেখা হয়েছে। এর পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে পাহাড়ি নদীগুলোর জলস্তর। ধস (Landslide alert) ও প্লাবনের জোড়া আশঙ্কায় এই মুহূর্তে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পাহাড়ের মানুষ। কেউ যাতে ঝোরা এবং নদীর আশপাশে না যান, সেই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
অনবরত বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝোরাগুলো এখন কার্যত প্রবল স্রোতে বয়ে যাওয়া নদীতে পরিণত হয়েছে। ঝোরার তীব্র জলের তোড়ে কার্সিয়াং মহকুমায় বেশকিছু জায়গায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এদিন ভোর থেকেই পাগলাঝোরায় ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে ঝোরার জল প্রচণ্ড গতিতে যেতে থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় ওই রুটে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে জল পেরিয়েই যান চলাচল শুরু হয়। পাগলাঝোরায় ঝোরার কাছেই দু’-তিনটি দোকানঘর রয়েছে। সেই দোকানেই কয়েকজন বসবাস করেন। ঝোরার ভয়ংকর রূপ দেখে তাঁরা সেখান থেকে সরে গিয়েছেন।
পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে বালাসন নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে। পাশাপাশি কালিম্পং ও সিকিমে ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তা, রঙ্গিত নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে।
প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং (Darjeeling) এবং কালিম্পংয়ের (Kalimpong) দুই জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন বসতি অঞ্চলে ধসের আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে সমস্ত সরকারি দপ্তরকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দার্জিলিংয়ের জেলা শাসক হরিশংকর পানিক্কার জানিয়েছেন। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্তব্ধ। এদিনই ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে সেবকের কাছে এসএনটি ধুরায় পাহাড় থেকে বোল্ডার এবং কাদামাটি নেমে রাস্তায় পড়ে। এর জেরে রাস্তা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। পরে ধস সরিয়ে একমুখী যানবাহন চলাচল শুরু করানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পথে বিকেল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আগামী কয়েকদিন পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রতিটি ব্লকেই বিডিও অফিসের তরফে মানুষকে সচেতন থাকার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় না যাওয়া, নদীসংলগ্ন এলাকায় বসতি থাকলে সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

