Nepal Flash Flood | বারান্দায় মৃত্যুর অপেক্ষা! নেপালের প্রলয়ঙ্করী হড়পার ভাইরাল ভিডিও কাঁপিয়ে দিল নেটদুনিয়া

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নেপালে (Nepal Flash Flood) হড়পার পর এক ভয়াবহ দৃশ্য সামনে আসছে, যা যে কোনো হলিউডি বা বলিউড সিনেমার থ্রিলারের চেয়েও বেশি রোমহর্ষক। এই বিপর্যয়ের মধ্যে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি গা ছমছমে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটাগরিকরা। মাত্র ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের এই ভিডিওয় এক পরিবারকে যেভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে, তা যেকোনো মানুষের বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি আকাশি রঙের দোতলা বাড়ির ঠিক পাশ দিয়েই তীব্র বেগে বয়ে চলেছে নদীর রাক্ষুসে স্রোত (Nepal Catastrophe)। দোতলার সমান উঁচু সেই কাদামাটি, পাথর ও জলের হিংস্র ঝাপটায় চোখের নিমেষে চোখের সামনে ভেঙেচুরে ভেসে যাচ্ছে আশেপাশের সমস্ত ঘরবাড়ি। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিন্দুমাত্র সময় বা সুযোগ ছিল না। ফলে নিরুপায় হয়ে নিজেদের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে অসহায়ভাবে প্রকৃতির এই নির্মম তাণ্ডব দেখতে বাধ্য হন এক দম্পতি এবং তাঁদের সন্তান। একে অপরকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে প্রতি মুহূর্তে যেন এক অনিশ্চিত ও ভয়ংকর মৃত্যুর অপেক্ষা করছিল ওই পরিবার।

ভিডিওটি-র প্রতিটা সেকেন্ডে চরম আতঙ্ক ঝরে পড়েছে। জলের তীব্র আঘাতে কখনও ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে বাড়ির কার্নিস, তো কখনও চোখের পলকে ছাদের একটা অংশ নিমেষে খসে পড়ে মিলিয়ে গেছে প্রবল স্রোতে। এর মধ্যেই আবার জলের তোড়ে ভেসে আসা একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে বাড়িটির একতলায়। ঠিক তার পরেই ধেয়ে আসা বিশাল এক কাদার ঢেউ গিলে খায় পিছনের বারান্দার অংশটিকেও। সর্বগ্রাসী ধ্বংসলীলার মাঝে অলৌকিকভাবে ওই বাড়িটি কিছুটা টিকে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই পরিবারটির ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাঁরা প্রাণে বেঁচেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ২৬ অগাস্টের এই মর্মান্তিক ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা এই জল ও কাদার সর্বগ্রাসী স্রোত মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সুযোগ পেলেও অনেকেই চোখের পলকে এই প্রলয়ের গ্রাসে হারিয়ে যান। হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত মিশে তৈরি হওয়া এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ সম্পূর্ণ ছারখার হয়ে গিয়েছে। উধাও হয়ে গিয়েছে বহু রাস্তাঘাট, সেতু ও বসতি। বর্তমানে নেপালি সেনা, পুলিশ এবং যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টার নিয়ে দুর্গম এলাকাগুলিতে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। এই বিধ্বংসী দুর্যোগে নেপালে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁডড়িয়েছে ৫৭৯। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *