Malda | গ্রামের ছেলের ধর্ষণ-যোগে মাথা হেঁট 

Malda | গ্রামের ছেলের ধর্ষণ-যোগে মাথা হেঁট 

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


সেনাউল হক, কালিয়াচক: দুর্গাপুর কাণ্ডে নাম জড়ানোয় মাথা হেঁট হয়ে গেল গ্রামের। ধর্ষণের অভিযোগে এলাকার ছেলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় অন্তত এমনটাই মনে করছেন মালদার (Malda) কালিয়াচকের (Kaliachak) সিলামপুর পঞ্চায়েতের মহালদারপাড়ার বাসিন্দারা।

দুর্গাপুরের ঘটনায় নির্যাতিতা তরুণীর বন্ধু ওয়াসেফ আলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওয়াসেফের বাড়ি কালিয়াচকের মহালদারপাড়ায়। ওয়াসেফের সঙ্গে ওই ডাক্তারি পড়ুয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। ধর্ষণের ঘটনায় ওয়াসেফ জড়িত শুনে হতবাক এলাকার বাসিন্দারা। ছেলেটি পাড়ায় কারও সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করত না বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী। তবে বাড়ির ছেলে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে শুনে মুষড়ে পড়েছেন ঠাকুরদা। এদিকে, ছেলের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর শুনেই মা-বাবা দুর্গাপুরে গিয়েছেন। এই গণধর্ষণের মামলায় আগেই পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় নির্যাতিতা ছাত্রীর বন্ধু ওয়াসেফ আলিকেও৷

এদিন মহালদারপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, রাস্তার পাশেই ওয়াসেফদের দোতলা বাড়ি৷ নীচের তলায় বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। একটি হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে। দোকানটি চালান ওয়াসেফের বাবা আনিসুর রহমান। বুধবার দুপুরে দোকান খোলা থাকলেও একজন কর্মচারী ছাড়া দোকানে কোনও লোক দেখা যায়নি। বাড়িতেও লোকজন তেমন চোখে পড়েনি। ওয়াসেফের বাবা, মা মঙ্গলবারই দুর্গাপুর চলে গিয়েছেন৷ বর্তমানে গোটা বাড়িতে শুধু ওয়াসেফের বৃদ্ধ ঠাকুরদা দুল্লা হাজিই রয়েছেন৷

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ছেলেটির বাবা একসময় কংগ্রেসের টিকিটে জিতে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছিলেন৷ তবে এখন আর রাজনীতি করেন না। এখন ব্যবসা করেন৷  তাঁর এক ছেলে, দুই মেয়ে৷ দুই মেয়েই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছে৷ ওয়াসেফও ছোট থেকে হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত৷ তবে উৎসব অনুষ্ঠানে কয়েকদিনের জন্য বাড়ি এলেও বাইরে বিশেষ বেরোত না৷ পাড়ায় কারও সঙ্গে তেমন মিশতও না৷

এলাকার বাসিন্দা নাসিম আখতারের কথায়, ‘ওয়াসেফ ছোট থেকে দুর্গাপুরেই পড়াশোনা করে৷ যখন বাড়ি আসত, বাড়ির ভিতরেই থাকত৷ বাইরে তেমন বেরোত না৷ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডাও দিত না৷ ছেলেটা খুবই আত্মকেিন্দ্রক। তবে এমন কাণ্ডে জড়িয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি। তদন্তটা সঠিক পথে এগোলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ ইকবাল বলেন, ‘ছোট থেকে ওয়াসেফ হস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করে৷ মাঝেমধ্যে দু’চারদিনের জন্য বাড়ি আসত৷ পড়াশোনা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকত। পাড়ায় ওর বন্ধুবান্ধব কেউ নেই৷ ও এমন কাজ করেছে শুনে অবাক লাগছে। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় নাম জড়ানোয় গ্রামের মাথা একেবারে হেঁট হয়ে গেল।’

ওয়াসেফের ঠাকুরদা দিনভর বাড়ির ভিতরে একাই বসেছিলেন। তবে কারও সঙ্গে কোনও কথা বলতে চাননি এদিন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *