বর্ধমান: সরকার বদলের পর বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণের হাওয়া এসে লাগল পূর্ব বর্ধমানের কালনার কুটির শিল্পেও (Modi Suvendu saffron rakhi)। আর মাত্র কয়েক দিন বাদেই রাখী পূর্ণিমা। তার আগে কালনার বিখ্যাত রাখী শিল্পীদের হাতের তৈরি পদ্মফুল, ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা এবং গেরুয়া রঙের রাখীর চাহিদা এখন তুঙ্গে। শুধু রাজ্যেই নয়, রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়ে কালনার এই বিশেষ রাখী এবার পাড়ি দিচ্ছে যোগী রাজ্যের অযোধ্যাতেও! আর এর ফলেই চরম ব্যস্ততা ও খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে কালনার রাখী শিল্পীদের অন্দরে।
কালনার রাখী শিল্পীদের শিল্পনৈপুণ্যের সুনাম রাজ্য ছাড়িয়ে বরাবরই ভিনরাজ্য এমনকি বিদেশেও ছড়িয়ে রয়েছে। ‘ক্লাস্টার উইভার্স অ্যান্ড আর্টিজেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র সহযোগিতায় বিগত কয়েক দশকে কালনায় এই কুটির শিল্পের পরিধি আরও বেড়েছে। ছোট-বড় বহু কারখানায় দিনরাত এক করে এখন কাজ করছেন শিল্পীরা।
শিল্পীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর কালনার শ্যামগঞ্জপাড়ার প্রশিক্ষিত শিল্পীরা চিরাচরিত ডিজাইনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক থিমের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি দেওয়া রাখির পাশাপাশি এবার বাজারে প্রবল চাহিদা রয়েছে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সংবলিত রাখীর। রঙিন পাথর, পুঁতি, জরি ও চুমকি দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকার্যে তৈরি হচ্ছে এই রাখীগুলি। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি রাখীও রয়েছে, তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবছর গেরুয়া রঙের রাখীর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
কালনা মহকুমার হাজার হাজার দক্ষ ও অদক্ষ নারী ও পুরুষ শিল্পী এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল কারিগর হলেন মহিলারা। সংসারের সমস্ত কাজ সামলে এই শিল্পীরা নিখুঁত হাতে রাখী তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাখী তৈরিতে যুক্ত শিল্পী সায়ন্তিকা পাল ও অনামিকা চৌধুরীরা জানান, নজরকাড়া ও আকর্ষণীয় রাখী তৈরি করতে গেলে যেমন নিখুঁত শিল্পভাবনা প্রয়োজন, তেমনই লাগে প্রচুর ধৈর্য ও সময়। তবে এই কাজের সুবাদে তাঁদের মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। রাখী তৈরি করে যে তাঁরা আজ আর্থিকভবে পুরোপুরি স্বনির্ভর হতে পেরেছেন এবং নিজেদের সংসারের হাল ধরতে পেরেছেন, তা তাঁরা গর্বের সঙ্গে স্বীকার করেছেন।
‘ক্লাস্টার উইভার্স অ্যান্ড আর্টিজেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র সম্পাদক তপন মোদক জানান, ‘‘কালনার শিল্পীদের তৈরি রাখীর গুণগত মান সবসময়ই অত্যন্ত উন্নত। এর আগেও আমাদের শিল্পীরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রচুর রাখির বরাত পেয়েছিলেন। তবে এবছরের চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা—অযোধ্যা সহ ভিনরাজ্য থেকে গেরুয়া রাখীর চাহিদা এবার নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।’’

