নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: জু অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার ঢিলেমির জন্য দক্ষিণ খয়েরবাড়ি (Dakshin Khairbari) মিনি জু-এর ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বনকর্তাদের একাংশ। কারণ রাজ্য সরকার থেকে মাস্টার প্ল্যান প্রায় দু’মাস আগে জু অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে। অথচ আজও সেই প্ল্যান ভোরের আলো দেখে উঠল না। এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা ভাবাচ্ছে বনকর্তাদের। এই অনুমোদন না আসা পর্যন্ত এত বড় প্রকল্পের কাজ শেষ করা অসম্ভব বলে বক্তব্য তাঁদের।
শিলিগুড়ির সংলগ্ন বেঙ্গল সাফারির আদলেই দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে মিনি জু মাস্টার প্ল্যান রাজ্য থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বলেন, ‘জু অথরিটি অফ ইন্ডিয়া থেকে এখনও অনুমোদন না আসায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। রাজ্যের প্রতিনিধিদল শীঘ্রই দক্ষিণ খয়েরবাড়ি পরিদর্শনে আসবে।’ ক্ষুব্ধ পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। জলদাপাড়া লজ ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জহরলাল সাহার কথায়, ‘কয়েক বছর ধরেই শুনে আসছি এখানে মিনি জু হবে। থাকবে ভালুক, বাঘ, সিংহ, নানা প্রজাতির হরিণ, পাখি ও কুমির। বেঙ্গল সাফারির আদলে তৈরি হবে এই মিনি চিড়িয়াখানা। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার ঢিলেমি করছে অনুমোদন দিতে।’
২০০৫ সালের ৫ নভেম্বর দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের সূচনা হয়েছিল তৎকালীন বনমন্ত্রী যোগেশচন্দ্র বর্মনের হাত ধরে। আনা হয়েছিল ১৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। আজ একটিও নেই। তবে চিতাবাঘ রয়েছে ২৬টি। স্বপ্নের সেই প্রকল্প কয়েক বছর ধরে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তৎকালীন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন দক্ষিণ খয়েরবাড়িকে ঢেলে সাজানোর জন্য মিনি জু তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাইরে ২০০৫ সাল থেকে দোকান করছেন নিমাই দাস, অজিত দাসরা। তারা জানালেন, একসময় এখানে নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা ছিল। ব্যাটারি চালিত গাড়িতে বসে চিতাবাঘ দেখার ব্যবস্থা ছিল। এখন সব অতীত। পর্যটকরা ঘুরতে এসে গালাগাল করে চলে যান। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে মিনি জু তৈরি করে বন্যপ্রাণীদের ছাড়া হোক।
এই মিনি জু ৬২ একর জমিতে হওয়ার কথা। জঙ্গলের ভেতর ১৮ কিমি পর্যটকদের ঘোরার সুযোগ থাকবে। ইতিমধ্যে পশু হাসপাতাল, পোস্ট মর্টেম রুম, রান্নাঘর ও চারদিক ঘেরাওয়ের কাজ হয়ে গিয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে কেন্দ্রের অনুমোদন লাগবেই।
কেন্দ্রের অনুমোদনের ব্যাপারে আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) সাংসদ মনোজ টিগ্গা জানালেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। বনকর্তারা তাঁকে যদি মাস্টার প্ল্যান পাঠানোর চিঠির কপি দেন, তাহলে অবশ্যই খোঁজ নেবেন।
