ফাঁসিদেওয়া: উত্তরবঙ্গে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত থামার নাম নেই। শুক্রবার সকালে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের গয়াগঙ্গা চা বাগানে (Gayaganga Tea Backyard) পাতা তোলার সময় চিতাবাঘের খপ্পরে পড়লেন রণজিৎ নাগেশিয়া নামে এক চা শ্রমিক (Leopard Assault)। কান্তিভিটার বাসিন্দা রণজিৎবাবু বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (North Bengal Medical School) চিকিৎসাধীন। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও চিতাবাঘের নখ ও দাঁতের আঘাতে তাঁর শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাগানের একটি সেকশনে প্রায় ২০ জনের একটি দল পাতা তোলার কাজ করছিলেন। রণজিৎবাবু যখন নিজের কাজে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বাগানের নালার ভেতর লুকিয়ে থাকা একটি চিতাবাঘ আচমকা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চিতাবাঘের কামড়ে তাঁর বাঁ হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, থাবা বসায় বুক ও পিঠের অংশেও। সহকর্মীদের সম্মিলিত চিৎকার ও প্রতিরোধের মুখে পড়ে চিতাবাঘটি শেষ পর্যন্ত চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতাল ও পরে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে কার্সিয়াং বনবিভাগের ঘোষপুকুর রেঞ্জার সংবর্ত সাধু দলবল নিয়ে বাগানে পৌঁছান। বনকর্মীরা এলাকায় শব্দবাজি ফাটিয়ে বাঘ তাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে বন দপ্তরের এই ‘তাৎক্ষণিক’ পদক্ষেপে খুশি নন শ্রমিকরা। শ্রমিক সুনীতা বড়া এক্কার অভিযোগ, “সকাল থেকেই চিতাবাঘটিকে এলাকায় ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল। বারবার বন দপ্তরকে জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।” মহিলা শ্রমিকরা অবিলম্বে এলাকায় খাঁচা পাতার দাবিতে সরব হয়েছেন।
রেঞ্জার সংবর্ত সাধু জানিয়েছেন, “আক্রান্ত রণজিৎবাবু সরকারি নিয়ম মেনে সমস্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। আমরা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যাচ্ছি।” তবে খাঁচা পাতা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও আশ্বাস মেলেনি।
