Meals security raid | পচা মাংস-মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলার রোষে ধস নামল অনলাইনে! শিলিগুড়ির রেস্তোরাঁ পাড়ায় আসল আতঙ্কটা কোথায়?

শিক্ষা
Spread the love


পচা মাংস থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা দেখে গা শিউরে উঠছে। সন্ধ্যা নামলে ফাস্ট ফুডের দোকানে ভিড় হলেও, খানিকটা ভাটা পড়েছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার অর্ডারে। কর্মীদের দাবি, হয়তো বাড়িতে বসে অর্ডার করার চাইতে দোকানে গিয়ে খেতে ভরসা বেশি পাচ্ছেন মানুষ। আজ প্রথম পর্ব

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: রবিবার দুপুর। বর্ধমান রোডে একটি রেস্তোরাঁর সামনে গাছের ছায়ায় বাইকটি দাঁড় করিয়ে গা এলিয়ে মোবাইল স্ক্রল করছিলেন আদর্শ রায়। তিনি একটি ফুড ডেলিভারি সংস্থার কর্মী।

-কী দাদা, চাপ কম?

‘ধুর…’ বলে বিরক্তি উগরে দিলেন আদর্শ। এরপর বললেন, ‘সারাদিন মোবাইল খুললে শুধু এখানে হানা দিচ্ছে-সেখানে হানা (Meals security raid) দিচ্ছে। খুব খারাপ অবস্থা দোকানগুলির। গতমাসেও এই সময় বসার ফুরসত পেতাম না। অথচ, গত কয়েকদিন ধরে রাশ কমে গিয়েছে।’

আক্ষেপের সুর শোনা গেল শিলিগুড়ি (Siliguri) জংশনের একটি হোটেলের সামনে বসে থাকা ডেলিভারি বয় মানস দাসের গলায়। প্রশ্ন করায় প্রথমেই অগাস্টের তুলনা টানলেন। হিসেব করে তঁার কথা, ‘গতমাসে দিনে গড়ে বারো ঘণ্টা কাজ করলে সতেরো থেকে আঠেরোটা অর্ডার পাওয়া যেত। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে দশ থেকে বারোটায়।’

হঠাৎ এমন অবস্থা কেন? চেকপোস্টে একটি প্রসিদ্ধ কেকের দোকানের সামনে দঁাড়িয়ে মণীশ সাহানি নামের অপর এক ডেলিভারি বয়ের দাবি, ‘চারদিকে কী সব পাওয়া যাচ্ছে দেখেছেন! লোকে হয়তো বাড়িতে বসে অর্ডার দিতে দু’বার ভাবছেন। তার চাইতে বরং, নিজে দোকানে গিয়ে সব দেখেশুনে কিনে আনবেন।’

কবি বেঁচে থাকলে নির্ঘাত বলতেন, ‘দু’চোখে যেদিকে যায়, শুধুই পচা মাল খুঁজিয়া পায়।’ এর আগেও খাদ্য সুরক্ষার অভিযান হয়েছে শিলিগুড়িতে। কমোড বিরিয়ানির সেই দৃশ্য ভুলতে পারবে না এ শহর। দৃশ্য না ভুললেও, ভেবে-বেছে খাওয়ার অভ্যাস বাঙালির ধাতে সওয়া সহজ কথা নয় মোটে। সাবধানি পেটপুজো ততদিন চলে, যতদিন ‘ঘা’ তাজা থাকে। এবারও তেমন হবে, আশাবাদী ফুড ডেলিভারি সংস্থার কর্মীরা। তবে আপাতত ক’টা দিন অর্ডার আর পকেট, টান থাকবে দুয়েই। শহর ও সংলগ্ন এলাকায় জনপ্রিয় দুই ফুড ডেলিভারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে মুখ না খুলতে চাইলেও কর্মীরা হাড়ে হাড়ে বিষয়টি টের পাচ্ছেন।

যে সমস্ত খাবারের দোকানের বিক্রিবাটা অনেকটাই বেশি নির্ভরশীল অনলাইনের ওপর, সেই ব্যবসায়ীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। ডেলিভারি সংস্থার মাধ্যমে অর্ডার কমছে, স্বীকার করল প্রধাননগরের বিখ্যাত মোমোর দোকান থেকে এসএফ রোডের কয়েকটি বড় রেস্তোরঁার মালিকপক্ষ। তারাও আশাবাদী, পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হবে।

প্রধাননগরের মণীশ তামাংয়ের কথায়, ‘আগে মোমো, চাউমিন মিলিয়ে সারাদিনে একশো থেকে একশো কুড়িটি অর্ডার চলে আসত। এখন সত্তর থেকে আশিটা হচ্ছে।’ একশ্রেণির ব্যবসায়ীর অসচেতনতার কারণেই বাকিদের ভুগতে হয়, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্টেশন ফিডার রোডের এক রেস্তোরাঁর ম্যানেজার বিজয় সাহানি। তঁার মতে, ‘ক্রেতাদের মধ্যে বিশ্বাস ফেরাতে কিছুটা তো সময় লাগবেই।’

বর্ধমান রোড ধরে খালি ব্যাগ নিয়েই সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন নবীন দে। হিলকার্ট রোডের একটি মিষ্টির দোকানের অর্ডার এসেছে। ডেলিভারি দিতে যাওয়ার কথা পতিরামজোতে। মুখে গম্ভীরভাব নিয়ে জানালেন, সকাল থেকে এটাই প্রথম অর্ডার পেলেন। দিনে গড়ে দশটা করে পাচ্ছেন, অগাস্টের শেষদিকে ন্যূনতম পনেরো-ষোলোটা মিলত।

একদল ব্যবসায়ীর জন্য আরেকদলকে বিপাকে পড়তে হয় সবসময়, অভিযোগ সেবক রোডের একটি ধাবার কর্মী মনোজ সিংয়ের। তঁার বক্তব্য, ‘খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে সবচেয়ে অস্বস্তিজনক ছবি ধরা পড়েছে সেবক রোডের হোটেল, রেস্তোরাঁগুলিতে। তাই, আমাদের বিক্রিবাটার ওপর প্রভাব বেশি।’ ওই ধাবায় নাকি অর্ডার আসছে না বললেই চলে।

ছুটির দিন সকাল ১১টা বাজে তখন। খানিকক্ষণ আগেই দোকানের ঝাঁপ খুলেছেন। নিবেদিতা রোডের একটি বিরিয়ানির দোকানে কর্মচারী ও মালিকের মধ্যে কথোপকথন চলছিল কতটা চাল নেওয়া হবে। খাবার টেবিল দুটোই। কারণ, ডেলিভারি সংস্থাই বিক্রির মূল মাধ্যম এখানকার। কর্মচারী দু’বার প্রশ্ন করলেও মালিকের মুখে রা নেই। সংস্থার অ্যাপ খুলে গত দু’দিনের অর্ডারের হিসেব মেলাতে ব্যস্ত। যেমন, অনলাইন খাবার অর্ডার নিয়ে দিনভর অঙ্ক কষে চলেছেন মানস-আদর্শরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *