উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ কূটনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা প্রকাশ্যে এল। গত মঙ্গলবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) ফোন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। কিন্তু সেই ফোনালাপে দুই রাষ্ট্রনেতার পাশাপাশি নিঃশব্দে উপস্থিত ছিলেন টেক-জায়ান্ট ইলন মাস্ক (Modi Trump name Elon Musk)। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশিত হতেই জল্পনা শুরু হয়েছে— কেন জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এই আলোচনায় মাস্ককে জায়গা দেওয়া হলো?
ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু
প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
- শান্তি স্থাপন: ভারত দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি চায় বলে ট্রাম্পকে জানান মোদি।
- হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখার বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনেতা একমত হয়েছেন।
- যৌথ প্রয়াস: মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ভারত ও আমেরিকা একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
মাস্কের উপস্থিতি: রহস্য না কি কৌশল?
হোয়াইট হাউস বা নয়াদিল্লি— কোনও পক্ষই মাস্কের উপস্থিতি নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুপ্রবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১. বাণিজ্যিক যোগসূত্র: সৌদি আরব ও কাতার থেকে মাস্কের সংস্থা বিপুল বিনিয়োগ পায়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মাস্কের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। ২. ভারতীয় বাজার: মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্পেস এক্স’ (SpaceX) এই বছরের শেষেই ভারতে ব্যবসা শুরু করতে চায়। মোদীর সঙ্গে সুসম্পর্ক মাস্কের বাণিজ্যিক প্রসারের জন্য জরুরি। ৩. ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা: নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের তিক্ততা কমেছে বলেই তিনি এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় শামিল হতে পেরেছেন।
জাতীয় নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত উপস্থিতি
সাধারণত দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কথোপকথন অত্যন্ত গোপনীয় থাকে। সেখানে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার প্রোটোকল লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। যদিও মাস্ক ওই ফোনে কোনও কথা বলেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলি মাস্ক ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনও উত্তর মেলেনি।
