RSS enlargement | রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরই রকেট গতিতে বাড়ল আরএসএসের শক্তি! নেপথ্যের আসল সমীকরণ কী?

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: রাজ্যে বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আসার পর এক ধাক্কায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে গুরুপূর্ণিমায় অংশগ্রহণের সংখ্যা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) (RSS enlargement) সূত্রে খবর, এবার উত্তরবঙ্গ প্রান্তে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংসেবক এবং সংঘ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গুরুপূর্ণিমার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সেই কর্মসূচিতে জমা পড়া গুরুদক্ষিণার পরিমাণও গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। এই হিসাব থেকেই সংঘ কর্তারা মনে করছেন, তাঁদের কাজের ক্ষেত্রও বেড়েছে। আগামীদিনে এই অর্থ সংঘের কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

তবে সংঘের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই কি কেউ কেউ দু’হাত ভরে গুরুদক্ষিণা দিয়েছেন? নাকি সংঘের বাইরেও কেউ গুরুদক্ষিণা দিয়ে সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগ কতটা, তা দেখানোর চেষ্টা করেছেন? প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। যদিও সংঘের উত্তরবঙ্গের এক কর্তার বক্তব্য, ‘আরএসএসের কাজই চলে গুরুদক্ষিণার মাধ্যমে। প্রত্যেকবার স্বয়ংসেবকরা গুরু অর্থাৎ দেশমাতার চরণে দক্ষিণা দিয়ে থাকেন। বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার সংঘের সঙ্গে বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। সেজন্যই হয়তো গুরুদক্ষিণার পরিমাণ এবং যাঁরা দান করেছেন, তাঁদের সংখ্যা বেড়েছে।’

এতদিন গুরুপূর্ণিমা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সংখ্যা কম ছিল। ফলে গুরুকে অর্থদানের পরিমাণও ছিল অনেকটা কম। রাজ্যে পালাবদলের পরে সেই সংখ্যা এবং অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ নিয়ে সংঘের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রায় চার মাস আগেও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ২২ হাজার। এবার সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ৬৫ থেকে ৭০ হাজার মানুষ। সেই হিসাবে উত্তরবঙ্গে কয়েক কোটি টাকা গুরুদক্ষিণা হিসেবে জমা পড়ার কথা।

রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকারকে দিশা দেখাচ্ছে আরএসএস। তবে পদ্ম শিবিরে যোগদান এখনও সবার পক্ষে সহজ না হওয়ায় অনেকে আরএসএসের (RSS) নানা শাখা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন। সংঘের দরজা সবার জন্য খোলা। ফলে অনেকেই বিজেপিতে স্থান না পেলেও সংঘের নানা সংগঠনের বিভিন্ন ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে গিয়েছেন। গুরুপূর্ণিমায় সংঘ পরিবারের সমস্ত সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিতে পারেন। সেই কারণেই এর পরিমাণ এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি। তবে সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই বিজেপির সুবিধা পাওয়া যাবে, এই ধারণা ভুল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সংঘ কর্তা।

শনিবার ও রবিবার শিলিগুড়িতে আরএসএসের উত্তরবঙ্গের সদর দপ্তরে দু’দিন ধরে প্রান্তের বৈঠক হয়েছে। সেখানে সংঘের কাজের প্রসার বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংঘ প্রতিষ্ঠার একশো বছর উপলক্ষ্যে শেষ দুটি কর্মসূচি নিয়েও বিস্তর আলোচনা করেছেন কর্তারা। গত তিন মাসের বেশি সময়ের হিসাবনিকাশ নিয়েও হয়েছে বিশদ বিশ্লেষণ।

সংঘ সূত্রে খবর, রােজ্য বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে সংঘের শাখা বেড়েছে দ্বিগুণ। পালাবদলের আগে উত্তরবঙ্গে ৫০০–রও বেশি শাখা চলত। বর্তমানে তা বেড়ে এক হাজারের বেশি হয়েছে বলে দাবি। আরএসএসের উত্তরবঙ্গ প্রান্তের এক নেতার বক্তব্য, ‘অনুকূল বাতাবরণে সংঘের কাজকে কত তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি করা যায় এখন সেই কাজই চলছে।’ তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একত্রীকরণ এবং সবচেয়ে বেশি শাখা চালু করার কর্মসূচি শুরু হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *