আয়ুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার: শুক্রবার দুপুরে তখন পূর্ব শান্তিনগর জিএসএফপি স্কুলে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) খাওয়া সবে শুরু হয়েছে। খুদে পড়ুয়ারা এক এক করে খাবার নিয়ে খেতে যাচ্ছে। সেই সময় হাজির দুই সাবালিকা। একজনের পরনে শাড়ি। আরেকজন সালোয়ার কামিজ পরে। রিয়া কুণ্ডু ও সোমা তপাদার। তাঁরা ওই স্কুলেরই প্রাক্তনী। সামনেই তাঁদের বিয়ে। এদিন মিড-ডে মিলের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্কুলেই তাঁদের আইবুড়োভাত খাওয়ানো হল।
স্কুলে ঢুকেই প্রধান শিক্ষককে প্রণাম করেন রিয়া ও সোমা। তখন জোর রান্নাবান্না চলছে রান্নাঘরে। মিড-ডে মিলের খাবারের পাশাপাশি আইবুড়োভাতের অনুষ্ঠানেরও তোড়জোড় চলছিল। সুস্বাদু রান্নার গন্ধে ম-ম করছিল চারদিক। স্কুলের তরফেই এদিন দুজনকে আইবুড়োভাত খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়েছিল।
কয়েকদিন আগে রিয়া বাড়িতে বলেছিলেন তাঁর ইচ্ছার কথা। স্কুলের মিড-ডে মিল খেতে চেয়েছিলেন তিনি। মেয়ের ইচ্ছার কথা বাড়ির লোকজন জানিয়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে। রাজি হয়ে যায় স্কুল। অতঃপর এই অভিনব আয়োজন।
স্কুল ছেড়ে বেরোনোর এতদিন পর এরকম আতিথেয়তা পেয়ে আবেগে ভেসে যায় দুজনই। পেশায় নার্স রিয়ার কথায়, ‘ছোটবেলায় যখন এই স্কুলে পড়তাম তখন মিড-ডে মিল খেতে খুবই ভালো লাগত। বাড়িতে বাবাকে একদিন বলেছিলাম যে আবার মিড-ডে মিল খেতে খুব ইচ্ছা করে। সেই ইচ্ছাপূরণ হল।’
সোমা বলেন, ‘ছোট থেকে এই স্কুলে পড়েছি। ২০১১ সালে স্কুল ছেড়েছি। আবার এখানেই আইবুড়োভাত খেলাম। সবার ভাগ্যে হয়তো এরকম জোটে না। আমরা ভাগ্যবান। খুবই আনন্দ হচ্ছে আমাদের। স্যর সব সময়ই সহযোগিতা করেছেন।’ সোমার মা বিভা দেব তপাদারেরও একই কথা।
এদিন সেই আইবুড়োভাতের অনুষ্ঠানের মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, আলু ভাজা, বেগুন ভাজা, পাঁপড় ভাজা, নদীর মাছ, মুরগির মাংস, চাটনি ও রসগোল্লা। এদিন স্কুলের বর্তমান পড়ুয়ারাও রিয়াদের পাশে বসেই খেয়েছে। অনুষ্ঠান নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ সিংহও। বলেন, ‘দুজনই আমাদের স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী। আমরা ওদের আশীর্বাদ করেছি।’
