উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) ভাঙন আর নেতৃত্বের শিবির বদলের জোয়ারের মধ্যেই ফের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল আয়োজিত এক কর্মীসভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মমতা বলেন, “২১ জুলাই (July 21 rally) আশা করি অনুমতি পাব। আমরা বছরে একটা দিনই মিটিং করি। পাঁচজন কর্মী থাকলেও সেই মিটিংয়ে আমি থাকব।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ডাক রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর এখন তৃণমূলের ঘর ভাঙছে রোজ। নেতাদের একাংশ দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, আবার অনেকে শিবির পরিবর্তন করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ২১ জুলাইয়ের ডাক সংগঠনের কর্মীদের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের জনভিত্তি পরীক্ষার একটি প্রয়াস বলেই মনে করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশ সংক্রান্ত জটিলতা ও বিভিন্ন আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই নেত্রীর এই হুঙ্কার দলের ভেতরে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
এদিনের বক্তৃতায় নাম না-করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, “ইনি বিজেপি স্পনসর্ড সিপিএম নেতা। সিপিএম একটি কাজ ভালো করেছিল, একে বহিষ্কার করেছিল।” পাশাপাশি, পরিবারের ওপর নেমে আসা আইনি চাপের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “অভিষেককে রোজ সিআইডি, ইডি ডাকছে। আমাদের পরিবারের ওপর দিয়ে কী যাচ্ছে ভাবুন!” বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, “যাঁদের সুবুদ্ধি আছে, তাঁরা ফিরে আসুন। আর যাঁরা বেইমানি করছেন, তাঁরা ‘না ঘর কা না ঘাট কা’ হয়ে থাকবেন।” মমতার এই আক্রমণের পালটা প্রতিক্রিয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কুণাল ঘোষ আমাকে তো চারআনার নকুলদানা বলেছেন। তাহলে আমাকে নিয়ে নেত্রী এত সময় নষ্ট করছেন কেন?”
বাম আমল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ছিল তৃণমূলের অস্তিত্বের লড়াইয়ের প্রতীক। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। দল যখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে, তখন এই সমাবেশ আয়োজন করা এবং সেখানে কর্মী সমাগম নিশ্চিত করাই নেত্রীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নেতারা সরে গেলেও তৃণমূল স্তরের কর্মীদের আবেগ মমতাকেই আঁকড়ে থাকে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য। সমাবেশের অনুমতি পাওয়া থেকে শুরু করে উপস্থিতির হার—প্রতিটি বিষয়ই এখন রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

