উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের কোন দপ্তরে কী কী অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, তা এবার জনসমক্ষে আনতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জবাবি ভাষণ দেওয়ার সময় এই সংক্রান্ত একটি ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশের ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। একই সঙ্গে সিএজি (CAG)-র অডিট রিপোর্টও প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে শুধু অতীতের কঙ্কাল বের করাই নয়, বিধানসভার মঞ্চ থেকে এদিন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের শিক্ষকদের জন্য ২০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্দেশখালিতে নতুন মহিলা থানা এবং উত্তরবঙ্গ জুড়ে একাধিক নতুন কলেজ তৈরির একগুচ্ছ ইতিবাচক ঘোষণাও করলেন অর্থমন্ত্রী।
নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণে যে তারা বদ্ধপরিকর, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বিধানসভায় স্বপন দাশগুপ্ত জানান, ‘বিগত সরকারের চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই রাজ্যের ঋণের বোঝা আজ পাহাড়প্রমাণ হয়েছে। দপ্তরের পর দপ্তর ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দেখানো হবে কীভাবে একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েও মাঝপথে থমকে গিয়েছে। জমি বণ্টন থেকে শুরু করে জলাভূমি ব্যবস্থাপনা— সব খাতের দুর্নীতির খতিয়ান মানুষের সামনে আনা হবে।’ তৃণমূলের পাল্টা দাবি ছিল, কেন্দ্রের বকেয়া টাকা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। কিন্তু নতুন সরকার সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে উল্টে পূর্বতন শাসকদলের আমলের ‘অন্দরমহলের দুর্নীতি’ ফাঁসের পথেই হেঁটেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, দুর্নীতি দমনে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে। এই অধিবেশনের শেষ দিনেই রাজ্য বিধানসভায় আসতে চলেছে এক নজিরবিহীন কড়া আইন। নতুন আইন অনুযায়ী, দুর্নীতি প্রমাণিত হলে শুধু জেল নয়, অপরাধীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলাম করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বুধবারই সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, হরিশ চ্যাটার্জি বা হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের মতো ভিভিআইপি এলাকার ‘প্রাসাদ’ গুলি দখল করে কলকাতার উড়ালপুলের নীচে থাকা আশ্রয়হীন মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করবে তাঁর সরকার।

