Malda TMC Workplace | নেতা বদলালেই বদলায় ঠিকানা! মালদায় তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ঝুলছে তালা

Malda TMC Workplace | নেতা বদলালেই বদলায় ঠিকানা! মালদায় তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ঝুলছে তালা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


হরষিত সিংহ, মালদা: মালদা (Malda) শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়টি (Malda TMC Workplace) এখন কার্যত জনশূন্য। ভোটগণনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তালাবন্ধ অফিসের নীল রঙের শাটার গেটটি খাঁখাঁ করছে। একদিকে একটি তালা ঝুলছে, অপরদিকটায় শাটারে আলাদা করে কোনও তালা নেই। সচরাচর যে এলাকাটি নেতা-কর্মীদের ভিড় এবং সার দিয়ে দাঁড়ানো গাড়ি, বাইক দেখা যেত সেখানেই এখন শুনসান পার্টি অফিস চত্বর। কোনও নেতা, কর্মী বা সমর্থকদের দেখা যাচ্ছে না। বুধবার দুপুরে এমনি ছবি ধরা পড়ল ইংরেজবাজার শহরের স্টেশন রোডের জেলা তৃণমূল অফিসের।

ওই পার্টি অফিসের সামনে দেখা যাচ্ছে অটো। তার চালকরা নির্দ্বিধায় পার্টি অফিসের দরজায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলছেন। ওই অফিসের আশপাশে বেশ কিছু দোকানপাট রয়েছে। সেখানে সকলে যে যাঁর মতো কাজে ব্যস্ত থাকলেও দলীয় কার্যালয়ে কোনও প্রাণের স্পন্দন নেই।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানালেন, ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে তৃণমূল (TMC) পার্টি অফিসে সেভাবে কাউকে আসতে দেখা যায়নি। এমনকি অফিসের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকারকেও দেখা যাচ্ছে না। আমি সকালে দোকানে আসি, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকি। এই সময়ের মধ্যে এই কয়েকদিন সেভাবে কাউকে পার্টি অফিসে দেখতে পাইনি। হয়তো বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকলে তো অফিসে অনেক মানুষজন, গাড়ি, মোটরবাইক দেখা যায়।

আরও একজন ব্যবসায়ীর কথায়, ‘ভোটের দুই-তিন দিন পর জেলা তৃণমূলের সভাপতি সহ দুই-একজন তৃণমূল নেতাকে দেখেছিলাম। তারপর আর কাউকেই দেখছি না। ভোটগণনার দিন আমার দোকান বন্ধ ছিল। মনে হয় কেউ আসেনি। এদিকে তৃণমূলের জেলা কার্যালয় এভাবে বন্ধ থাকা নিয়ে ইতিমধ্যে শহরবাসীর মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

ওই এলাকার একটি দোকানের কর্মচারী সুশীল কর্মকার নামে এক ব্যক্তির বক্তব্য, ‘আমি এই চত্বরেই থাকি। ভোটের রেজাল্টের পর এখন পর্যন্ত পার্টি অফিস খোলেনি। কাউকে অফিসে আসতে দেখতে পাচ্ছি না। এই অফিসে একজন কেয়ারটেকার ছিলেন, তাঁকেও দেখা যাচ্ছে না।’

মালদা জেলায় তৃণমূলের ইতিহাস বলছে, তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন একাধিকবার পার্টি অফিসের জায়গা পরিবর্তন হয়েছে। জেলায় যখন যে নেতা জেলা সভাপতি হয়েছেন সেই সময়ই তাঁর নিজের ব্যক্তিগত অফিস বা কার্যালয় জেলা তৃণমূলের কার্যালয় হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। সেখান থেকেই তৃণমূলের কাজকর্ম হয়েছে। জেলা সদর শহর ছাড়া জেলার অন্যান্য প্রান্তের নেতারা যখন জেলার সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন তখন তাঁরা শহরে ভাড়াবাড়ি নিয়ে পার্টি অফিস তৈরি করেছিলেন।

বৈষ্ণবনগরের নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন সভাপতি থাকাকালীন বিবেকানন্দপল্লি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে জেলা পার্টি অফিস তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে মালতীপুরের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বক্সী জেলা সভাপতির দায়িত্বে আসার পর ইংরেজবাজারের স্টেশন রোডের ভাড়াবাড়িতে অফিসটি চালু হয়। সেখান থেকেই তিনি দলের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। কিন্তু রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের প্রতিকূল ফলাফলের আবহে জেলা পার্টি অফিসের এই দীর্ঘকালীন নিস্তব্ধতা স্বাভাবিকভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

যদিও এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, ‘গত বিধানসভার তুলনায় এবার আমাদের দুটি আসন কমলেও মালদায় তৃণমূলের ফল রাজ্যের নিরিখে তুলনামূলক ভালো। বর্তমানে নেতারা ব্লক স্তরে সাংগঠনিক পর্যালোচনায় ব্যস্ত। পাশাপাশি জেলা সভাপতি কলকাতায় রয়েছেন, তাই পার্টি অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে অবাক হওয়ার মতো কোনও কিছু নেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *