‘দলের গদ্দারদের জন্যই এই ফল’, জিতে বিস্ফোরক কাজল শেখ, নিশানায় অনুব্রত?

‘দলের গদ্দারদের জন্যই এই ফল’, জিতে বিস্ফোরক কাজল শেখ, নিশানায় অনুব্রত?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


নিজে জিতলেও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির কারণে সেই উচ্ছ্বাস নেই। আর এহেন ফলাফলের জন্য দলের একাংশ নেতা-কর্মীকে দায়ী করলেন বীরভূমের হাসনের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখ। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির আবহে নানুরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “তৃণমূল এতটাই শক্তিশালী ছিল, যেখান থেকে দলকে এভাবে সরানো সহজ ছিল না। তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসই। দলের একাংশ গদ্দারি করেছে। ধীরে ধীরে জেলা সংগঠনে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। আগামী দিনে আরও অনেক কিছু সামনে আসবে।”

দলের সব অভ্যন্তরীণ সমালোচনা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন কাজল শেখ। তাঁর কথায়, “বিভিন্ন সময়ে দলের কিছু নেতানেত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, ‘নেত্রী ভালো, নেতা খারাপ’, ‘এটা গন্ডগোল, ওটা গন্ডগোল’। তাঁদের উদ্দেশ্যে বলব, আগে কেন বিষয়গুলি দলের অভ্যন্তরে তোলা হল না? আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে তো সংশোধনের সুযোগ ছিল। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সমীচীন নয়।”

আরও পড়ুন:

ছাব্বিশের ভোটে রাজ্যে কার্যত গেরুয়া সুনামি বয়ে গিয়েছে। দু’শোর বেশি আসনে জিতে রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বিজেপি। ঘাসফুল শিবিরের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৮০টি আসন। হারের মুখে পড়তে হয়েছে হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের। এনিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জনে নানা সমালোচনা শুরু করেছেন। কেউ দলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাককে দুষছেন, কেউ দলের আভ্যন্তরীণ নিয়মশৃঙ্খলাকেও দায়ী করছেন। এসব মন্তব্য যার যার ব্যক্তিগত, দলের কথা নয় বলে বিবৃতি দিতে হয় তৃণমূলকে। দলের এসব অভ্যন্তরীণ সমালোচনা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন কাজল শেখও। তাঁর কথায়, “বিভিন্ন সময়ে দলের কিছু নেতানেত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, ‘নেত্রী ভালো, নেতা খারাপ’, ‘এটা গন্ডগোল, ওটা গন্ডগোল’। তাঁদের উদ্দেশ্যে বলব, আগে কেন বিষয়গুলি দলের অভ্যন্তরে তোলা হল না? আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে তো সংশোধনের সুযোগ ছিল। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সমীচীন নয়।”

উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় বিভিন্ন ঘটনায় অশান্ত হয়ে উঠেছে নানুর। সন্তোষপুর গ্রামে খুন হন তৃণমূল কর্মী আবির শেখ। গুরুতর জখম হন তাঁর সঙ্গী তথা তৃণমূলের বুথ সভাপতি চাঁদ শেখ। বর্তমানে তিনি বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়াও কীর্ণাহার-সহ নানুরের একাধিক এলাকায় পার্টি অফিস দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে কাজল শেখ বলেন, “২০১১ সালের প্রাক্কালেও নানুরে আরও ভয়াবহ হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ও আমরা প্রতিবাদ ও লড়াই করেছি। আগামী দিনেও লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই নানুরের মানুষের পাশে থাকব।”

নানুরে ভোট পরবর্তী হিংসা হলেও দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে কাজল শেখ বলেন, “হিংসার পথে নয়, মানুষের পাশে থেকেই কাজ করতে হবে। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান – সকলকে নিয়েই আমাদের পথ চলা। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করছে, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, হত্যালীলা, লুটপাট ও হামলা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *