আনওয়ারুল হক, বৈষ্ণবনগর: গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ও নদীভাঙনের জেরে মালদার (Malda) বৈষ্ণবনগরের (Baishnabnagar) চর এলাকায় বুধবার থেকে একাধিক স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে গেল। জলমগ্ন রাস্তা, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবারের আশ্রয় নেওয়ার জেরে পারদেওনাপুর ও পারলালপুর অঞ্চলের কয়েকটি স্কুলে স্বাভাবিক পঠনপাঠন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবশ্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় উচ্চ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পারদেওনাপুর ৩ নম্বর কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারদেওনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পারদেওনাপুর জুনিয়ার গার্লস ইউনিট-২’এ পঠনপাঠন বর্তমানে স্থগিত। নদীভাঙন ও বাড়িঘর হারানো পরিবারগুলি আশ্রয় নিয়েছে পারলালপুর ঘাট এসএসকে-তে। সেখানেও কার্যত পঠনপাঠন বন্ধ। গোলাম মওলাপাড়া এসএসকের রাস্তা জলে ডুবে যাওয়ায় শিক্ষক ও পড়ুয়াদের পক্ষে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রাথমিকভাবে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক নাসরিন বানুর নির্দেশে পারদেওনাপুর ৩ নম্বর কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে সাময়িকভাবে পারদেওনাপুর হাই মাদ্রাসায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে চারপাশের এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় শিক্ষক ও পড়ুয়াদের পক্ষে পারদেওনাপুরের মাদ্রাসায় যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। যদিও সেই মাদ্রাসার ভিতরে এখনও জল ঢোকেনি।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পারদেওনাপুর হাই মাদ্রাসায় আপাতত অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মহম্মদ দানেস আলি বলেন, ‘মঙ্গলবার কোনওক্রমে ছাত্রছাত্রীদের ছুটি দিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে আমরা ফিরেছি। আমাদের স্কুলের শিক্ষকরা চোখের সামনে হোসাইনপুরের রাস্তার কালভার্ট ভেঙে যেতে দেখেছেন। আমরা তখন কালভার্টের প্রায় ২০০ মিটার পিছনে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছি। পরে সেই রাস্তা দিয়ে আর যেতে না পেরে ঘুরপথে ফিরতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। চারপাশ জলমগ্ন। মাদ্রাসার ভিতরে জল না ঢুকলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত অনলাইন ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট রুটিনে ক্লাস চলবে।
পারদেওনাপুর হাই মাদ্রাসার দশম শ্রেণির পড়ুয়া জায়েদা খাতুন অনলাইন ক্লাসে অংশ নেয়। জায়েদা জানায়, স্কুলে গিয়ে ক্লাস করা সম্ভব না হলেও অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা উপকৃত হচ্ছে। তবে বন্যার কারণে নেটওয়ার্কের সমস্যা রয়েছে। অভিভাবক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘অনলাইন ক্লাস মন্দের ভালো। কিন্তু নেটওয়ার্কই তো কাজ করছে না।’
গঙ্গার জলস্তর আরও বাড়লে এবং আগামী দু-এক দিনে পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠন বন্ধ হতে পারে বলে প্রশাসনের আশঙ্কা। বন্যা ও নদীভাঙনের পরিস্থিতিতে স্কুল স্থানান্তর এবং অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও প্রত্যন্ত চর এলাকার বহু পড়ুয়ার স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

