সামসী: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে ৪৯ দিন পর ফের চাঁচল-২ ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের (Jalalpur Panchayat) প্রধানের চেয়ারে বসলেন কংগ্রেসের (Congress) তফিজুল হক। তলবি সভায় তাঁকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Courtroom) দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। আদালতের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার পুনরায় প্রধানের দায়িত্ব বুঝে নিলেন তিনি। এই পটপরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সামসী সহ গোটা এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
২৮ আসন বিশিষ্ট জালালপুর পঞ্চায়েতে গত নির্বাচনে কংগ্রেস ১৬টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস ১২টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল। কিন্তু কিছুদিন পরই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। উপপ্রধান কোহিনুর বিবি সহ পাঁচ জন কংগ্রেস সদস্য দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। এর জেরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে অনাস্থা ভোটে অপসারিত হন তফিজুল হক। এরপর তৃণমূল বোর্ড গঠন করে এবং বিজলি আখতার প্রধানের দায়িত্ব নেন।
এই অপসারণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দারস্থ হন তফিজুল। আদালতের নির্দেশে তফিজুল ফেরায় ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দলত্যাগী পাঁচ সদস্যের পদ খারিজের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে দাবি করে ফের অনাস্থা এনে তফিজুলকে সরানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল।
এনিয়ে কংগ্রেসের চাঁচল-২ ব্লক সভাপতি সৈয়দ মানজারুল ইসলাম বলেন, “আইন ও গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। নিয়ম মেনে নির্বাচিত প্রধানকে বেআইনিভাবে সরানো হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তিনি দায়িত্বে ফিরেছেন। দলত্যাগী সদস্যদের পদ খারিজের দাবিতেও আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি। ফের অনাস্থা আনা হলে কংগ্রেসও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে তফিজুল হক চেয়ার ফিরে পেলেও জালালপুর পঞ্চায়েতের এই ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে আগামীদিনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

