কোচবিহার: পারিবারিক বিবাদের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল কোচবিহার (Cooch Behar)। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এনএন রোড বাইলেন এলাকায় ভাইপোর উপস্থিতিতেই বৌদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল দেওরের বিরুদ্ধে। এরপর অভিযুক্ত দেওর নিজেও ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন বলে খবর। এই জোড়া মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এক বাড়িতেই দুই পরিবার আলাদা অংশে বসবাস করত। অভিযুক্ত সঞ্জীবকুমার দে (৫৫) পেশায় একজন টোটোচালক ছিলেন এবং নিহত সেরাদীপা তালুকদার (৪৫) চিলকিরহাট হাইস্কুলের পার্শ্বশিক্ষিকা হওয়ার পাশাপাশি পোশাকের ব্যবসাও করতেন। সেরাদীপার প্রথম পক্ষের স্বামী আগেই আত্মঘাতী হওয়ার পর তিনি সঞ্জীবের দাদা সুব্রত দে-কে বিয়ে করেন। বর্তমানে সুব্রতবাবু একটি মাদক মামলায় জেল হেপাজতে রয়েছেন। নিহত সেরাদীপার প্রথম পক্ষের ছেলে সাগ্নিক বণিকের চোখের সামনেই এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে পুজোর বাসন বা ফুলের ঝুড়ি নিয়ে সেরাদীপা এবং সঞ্জীবের স্ত্রী কাকলি দের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। এরপর কাকলিদেবী কোচবিহার শহর লাগোয়া বাপের বাড়িতে চলে যান। দুপুর নাগাদ সঞ্জীব বাড়িতে ফিরলে বৌদির সঙ্গে তাঁর ফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই ক্ষিপ্ত অবস্থাতেই সঞ্জীব ধারালো অস্ত্র দিয়ে বৌদি সেরাদীপাকে উপর্যুপরি কোপাতে শুরু করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত মৃতার ছেলে সাগ্নিক চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। রক্তে ভেসে যাওয়া দেহ দেখে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই অভিযুক্ত সঞ্জীব নিজের ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী (Kotwali Police) ও ডেপুটি পুলিশ সুপার বিক্রম প্রসাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ফরেন্সিক টিমের সহায়তা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং দুটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (MJN Medical School & Hospital) পাঠিয়েছে। প্রাথমিক বিবাদের কারণ বলে মনে করা হলেও এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর পারিবারিক ক্ষোভ বা সম্পত্তিগত রেষারেষি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে নিহতের ছেলের রহস্যজনক নীরবতা এই ঘটনার জল আরও দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেই অনুমান এলাকাবাসীর।

