Malda | চাঁচল ও ভালুকা রেঞ্জে দেদার বেআইনি করাত কল! লিখিত অভিযোগ দায়ের বৈধ মিল মালিকদের

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সামসী: মালদা জেলার উত্তরাঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ বন রেঞ্জ-ভালুকা ও চাঁচল। এই দুই রেঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে রমরমিয়ে চলছে একাধিক বেআইনি শ মিল (করাত কল) ও প্লাইউড মিল। সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই গজিয়ে ওঠা এসব অবৈধ কলের দাপটে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বৈধ ও নিবন্ধিত মিল মালিকেরা। পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়ায় অবশেষে এই অবৈধ কারবার অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দুই রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার (Vary Officer) এবং মালদা (Malda) ডিভিশনের জেলা বন আধিকারিকের (DFO Malda) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা ও চাঁচল-উভয় রেঞ্জে এলাকারই আনাচে-কানাচে বেশ কিছু বেআইনি করাত কল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। ভালুকা রেঞ্জের অন্তর্গত মতিগঞ্জ,ভাদো ব্যাংক মোড়, কারবোনা(টেটিয়া ব্রিজ), হরিশ্চন্দ্রপুর, কুমেদপুর,হরদমনগর,মালাহার,বিষণপুর, কোচপুকুর,ডাহুয়া,খাড়াগ্রাম প্রভৃতি গ্রাম ও বাজার এলাকায় এই সমস্ত অবৈধ মিল চলছে।

অন্যদিকে,চাঁচল রেঞ্জের অধীনস্থ তুলসীহাটা, বনসুরিয়া,কাপাইচণ্ডী,ভবানীপুর, মনোহরপুর,কুশিদা,বারদুয়ারী,লক্ষ্মণপুর, মহানন্দপুর,চাঁচল শহর,খরবা,সুজাগঞ্জ ও ওমরপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলিতেও ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি কাঠ চেরাই কল গজিয়ে উঠেছে।

অভিযোগ, সরকারি বৈধ লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবিধি মেনে চলার কোনো প্রমাণপত্র ছাড়াই প্রকাশ্যে এসব কল চালানো হচ্ছে।অভিযোগপত্র অনুযায়ী ভালুকা রেঞ্জে ১৩ টি এবং চাঁচল রেঞ্জে ২৪ টি অবৈধ করাতকল রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মূল ক্ষোভ,তাঁরা সমস্ত সরকারি নিয়মকানুন মেনে, বার্ষিক নির্দিষ্ট ফি ও রাজস্ব প্রদান করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অথচ তাঁদের চোখের সামনেই বেআইনি মিলগুলি কোনো ট্যাক্স না দিয়ে কম খরচে কাঠ চেরাইয়ের সুযোগ দিচ্ছে। ফলে বৈধ মিল মালিকেরা চরম অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লোকসান গুনছেন। এতে যেমন সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনই রাজস্ব হারাচ্ছে সরকারও।

লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ীরা বন দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন:-অবিলম্বে স্পটে গিয়ে প্রতিটি বেআইনি মিলের বিরুদ্ধে সরজমিনে তদন্ত শুরু করতে হবে।তদন্ত সাপেক্ষে নথিহীন ও অবৈধ মিলগুলি অনতিবিলম্বে সিল করে চিরতরে বন্ধ করতে হবে।এই চক্রের নেপথ্যে থাকা অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অভিযোগপত্রগুলির প্রতিলিপি জেলা বন আধিকারিকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ভালুকা ও চাঁচল দুই রেঞ্জের রেঞ্জার মনোজিৎ শেঠ বলেন,“অভিযোগ পেয়েছি।” অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *