Hawker Eviction Protest Mamata | পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়! হাবড়া-যাদবপুরে বামেদের পর এবার ধর্মতলায় বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মিছিলে মমতা  

Hawker Eviction Protest Mamata | পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়! হাবড়া-যাদবপুরে বামেদের পর এবার ধর্মতলায় বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মিছিলে মমতা  

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রেল স্টেশন চত্বর থেকে পরপর হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে এবার কলকাতার রাজপথে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Hawker Eviction Protest Mamata)। বুধবার শিয়ালদহ থেকে হাওড়া স্টেশনের সংযোগকারী হকারদের সমর্থনে বুকে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে ধর্মতলায় এক প্রতিবাদী মানববন্ধনে অংশ নেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর চলতি মাসে এটি তাঁর দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই প্রতিবাদের আড়ালে আসলে দলের অবশিষ্ট সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজনৈতিক জমি পরখ করে নিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন মিছিলে তাঁর সঙ্গে পা মেলান কুণাল ঘোষ, দোলা সেন-সহ ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্টেশন চত্বর থেকে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ সরগরম। পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলি।

যাদবপুর ও হাবড়ায় বামেদের বিক্ষোভ: কিছুদিন আগেই যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও সৃজন ভট্টাচার্যরা, যেখানে সাধারণ মানুষেরও একটা বড় অংশকে দেখা গিয়েছিল। এমনকি গত পরশু মাঝরাতে হাবড়া স্টেশনে রেলের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকরা।

আদালতের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে তোপ: পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বেআইনি— সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে সামনে রেখে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী। রাজনৈতিক মহলের মতে, হকারদের ক্ষোভ ও আবেগকে হাতিয়ার করে ‘পলিটিক্যাল বেনিফিট’ বা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বামেরা।

বিরোধীরা যখন হকার ইস্যু নিয়ে ময়দানে সক্রিয়, ঠিক তখনই এই ‘হাতে গরম’ ইস্যুকে হাতছাড়া করতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের এই সমাবেশে তাঁর পেছনে ছিলেন শয়ে শয়ে সাধারণ হকার। তবে সাধারণ হকারদের জমায়েত চোখে পড়লেও, তৃণমূলের মূল সংগঠনের সিংহভাগের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

“ভোটে হারের পর চলতি মাসের ২ তারিখে ভোট-পরবর্তী অশান্তি ও এসআইআর ইস্যুতে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে প্রথম ধরনায় বসেছিলেন মমতা। সেদিন তাঁর পাশে মাত্র চার-পাঁচ জন বিধায়ক ও সাংসদকে দেখা গিয়েছিল। বুধবারের মিছিলেও দলের প্রথম সারির নেতাদের ভিড় ছিল যৎসামান্য।” — রাজনৈতিক বিশ্লেষক

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের সংগঠন যখন কার্যত খেই হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে, তখন হকারদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থাকে মেপে নিতেই এই লিটমাস টেস্টে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলগুলির তৎপরতার মুখে দাঁড়িয়ে এই হকার আন্দোলন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *