উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে ফের প্রবল অস্বস্তি। পুরনিয়োগ দুর্নীতি (Municipality Case) মামলায় শনিবার সকাল থেকে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন ভোরের আলো ফুটতেই কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) বাড়ি সহ কলকাতা ও শহরতলির ছয় থেকে সাতটি জায়গায় হানা দিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, এদিন সকাল থেকেই ইডি (ED)-র একটি দল মদন মিত্রের ভবানীপুর এবং কালীঘাটের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে বিধায়ক নিজে এই মুহূর্তে কোন বাড়িতে রয়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কামারহাটি পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। মদন মিত্রের বাড়ির পাশাপাশি ইডি-র আরও একটি দল বেহালার দিকেও হানা দিয়েছে।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বিধানসভা নির্বাচনের আবহেও এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার কামারহাটির বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
এদিকে, এই অভিযানের ঠিক আগের রাতেই কামারহাটি পুরসভা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন মদন মিত্র। শুক্রবার রাতে তিনি কামারহাটির পুরপ্রধান গোপাল সাহাকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে সরব হন। পরিস্থিতি এমনই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মদন মিত্র কামারহাটির সকল কাউন্সিলারকে পদত্যাগের নির্দেশ পর্যন্ত দিয়ে বসেন। তিনি দাবি করেছিলেন, কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে যে ‘নোংরা ব্যবহার’ করা হয়েছে এবং যেভাবে পুর পরিষেবা স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাতে পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘‘বিজেপির অপমান এবং নোংরামির একমাত্র জবাব হলো পদত্যাগ। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূলকে জিতিয়ে আবার পুরসভায় পতাকা ওড়াব।’’
মদন মিত্রের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাড়িতে ইডি-র হানা ঘটনাপ্রবাহকে আরও নাটকীয় করে তুলেছে। বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি অভিযোগ রয়েছে কি না বা কামারহাটি পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র কতটা, তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সকাল থেকে ইডি-র এই তৎপরতায় কামারহাটি ও ভবানীপুর এলাকায় কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার মোড় কোন দিকে ঘুরবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
