শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : সন্ধ্যা নামতেই পুজোমণ্ডপে জ্বলে উঠছে আলো। বাঁশ, কাপড় এবং থার্মোকলের কাজ চলছে। কেউ মণ্ডপের কাজ দেখছেন, কেউ প্রতিমা রাখার জায়গা তৈরি করছেন। কিন্তু জঙ্গল লাগোয়া সেই মণ্ডপের বাইরে চোখ রাখলেই বদলে যাচ্ছে ছবিটা। অন্ধকার জঙ্গল থেকে কখন হাতির দল বা অন্য কোনও বন্যপ্রাণী চলে আসবে— এই আতঙ্ক সব সময় তাড়া করে বেড়াচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই এমন আশঙ্কা। তাই পুজো এগিয়ে আসতেই মণ্ডপ রক্ষায় রাত পাহারা দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বন দপ্তরকে খবর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ফোন। বলতে গেলে ডুয়ার্সের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পুজোর আনন্দের সঙ্গে মিশে রয়েছে বন্যপ্রাণীর হামলার আতঙ্ক।
ডুয়ার্সের গরুমারা, চাপড়ামারি, অপালচাঁদ, লাটাগুড়ি, কাঠামবাড়ি সহ বিভিন্ন জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় একাধিক পুজো হয়। এলাকাগুলিতে বছরভর হাতি সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। অতীতে বন্যপ্রাণীর হামলায় মণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নজির রয়েছে। তাই পুজোর প্রস্তুতির সঙ্গে অনেক মণ্ডপে রয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
কয়েক বছর আগে চতুর্থীর সন্ধ্যায় উদ্বোধনের প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ, তখন লাটাগুড়ি নতুনপাড়ার ফ্রেন্ডস ক্লাবের পুজোমণ্ডপের একাংশ তছনছ করে দিয়েছিল বানরের দল। কয়েক বছর আগে লাটাগুড়ি গুয়াবাড়ি মঙ্গলসিং স্মৃতি ক্লাব ও পাঠাগারের পুজোমণ্ডপের কাছে চলে এসেছিল আটটি হাতির একটি দল। প্রায় এক ঘণ্টা ছিল হাতির দলটি, যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। চলতি বছরও পুজোর প্রস্তুতির মাঝে শুরু হয়েছে হাতির আনাগোনা। তাই মণ্ডপ সুরক্ষিত রাখতে রাত জেগে পাহারাও শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা।
ময়নাগুড়ির রামশাইয়েও বন্যপ্রাণীর আনাগোনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বছর কয়েক আগে পুজো দেখে বাড়ি ফেরার পথে হাতির হামলায় মৃত্যু হয়েছিল দুই গ্রামবাসীর। রামশাই বাজার শক্তি সংঘের সম্পাদক শ্যামল দেবনাথ বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও পুজোমণ্ডপের সামনে একটি গন্ডার চলে এসেছিল। পুজোর সময় মণ্ডপে বক্স বাজতে থাকায় সাধারণত বন্যপ্রাণী সামনে আসে না। কিন্তু মণ্ডপ থেকে বাড়ি ফেরার সময় বন্যপ্রাণীর আনাগোনা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পুজোর কয়েকদিন বন দপ্তরের আরও নজরদারি প্রয়োজন।’
মালবাজারের বিধায়ক শুক্রা মুন্ডাও মনে করেন, পুজোর কয়েকদিন হাতি সহ বন্যপ্রাণীর হামলা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ‘জঙ্গল লাগোয়া পুজোমণ্ডপগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বন দপ্তরের বিশেষ নজর থাকা প্রয়োজন।’ জলপাইগুড়ি বন বিভাগের এডিএফও জয়ন্ত মণ্ডল বলছেন, ‘সারা বছরই নজরদারি চলে। পুজোর সময় জঙ্গল লাগোয়া পুজোমণ্ডপগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। ইতিমধ্যেই এমন মণ্ডপগুলির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে বনকর্মীরা নজর রাখবেন।’

