হরিশ্চন্দ্রপুর: বিধানসভা নির্বাচনের আগে হরিশ্চন্দ্রপুরে (Harishchandrapur) তৃণমূলের (TMC) গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এল। জানা গিয়েছে, নৈশকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে ঘিরে তৃণমূলের বুলবুল, মর্জিনা গোষ্ঠীর সঙ্গে কোন্দল মন্ত্রী তজমুল হোসেন গোষ্ঠীর।
শুক্রবার অর্থাৎ শিশু দিবস উপলক্ষ্যে মন্ত্রীর গ্রাম পঞ্চায়েত মহেন্দ্রপুর এলাকায় একটি নৈশ্যকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথি হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার দুই জেলা পরিষদ সদস্য মর্জিনা খাতুন এবং বুলবুল খান। এই দুই নেতার ছবি ওই খেলার বিভিন্ন ফেস্টুন, হোর্ডিং, লিফলেটে ছাপানো হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রীর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এত বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন হলেও মন্ত্রী তজমুল হোসেনকে এই টুর্নামেন্টের কোথাও স্থান দেওয়া হয়নি এবং আমন্ত্রণও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এদিন সকালে এলাকায় খেলার গেটের পোস্টার, হোডিং ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। দলের একাংশের দাবি, মন্ত্রীর এলাকায় মন্ত্রীকে না ডেকে তাঁদের অতিথি করা নিয়েই ঘনিষ্ঠদের রাগ। আর এর জেরে এই ঘটনা।
আয়োজনকারী কমিটির সদস্য শামীম আক্তার বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকি। এ বছরও আমরা আমাদের পছন্দের ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাঁদেরই ছবি ফেস্টুনে ছিল। কিন্তু দেখতে পাই, হঠাৎ আমাদের ফেস্টুনগুলো ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়েছি, আমাদের দলেরই কিছু লোক এই কাজ করেছে। এখন খেলা বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য তথা ব্লক তৃণমূল সভাপতি মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘এই ঘটনা যে বা যাঁরা ঘটিয়েছে সেটা সত্যি নিন্দনীয়। যে দলের লোকই জড়িত থাক এটা কোনো মতেই আমি মেনে নিতে পারছি না। এলাকার কিছু তরুণ প্রতিবছর এই খেলার আয়োজন করে। কিন্তু এভাবে একটি খেলার পরিবেশ নষ্ট করে দেওয়া ঠিক নয়।’
আরেক জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান বলেন, ‘আমি খেলাধুলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এলাকার কোন খেলার কোন কমিটি কাকে ডাকবে না ডাকবে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু খেলার মাঠ কে কখনোই রাজনৈতিকভাবে কলুষিত করা উচিত নয়। আজকে এইভাবে ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া এটাকে সমর্থন করতে পারছি না।’ যদিও এ প্রসঙ্গে মন্ত্রি তজমুল হোসেন জানান, ঘটনার কথা আমার জানা নেই। কি ঘটেছে খোঁজ নেব।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে হরিশ্চন্দ্রপুরে শাসক দলের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তজমুল এবং বুলবুল গোষ্ঠীর মধ্যে একের পর এক প্রকাশ্য সংঘর্ষ সামনে এসেছে। এমনকি দলের সভাতেও বুলবুল এবং তজমুলকে দলীয় কর্মীদের সামনে প্রকাশ্যে তর্কে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এদিনের এই ঘটনা সামনে আসায় ফের দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিল বলেই মত কর্মীদের।
অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক কিষান কেডিয়া বলেন, ‘বুলবুল এবং তজমুলের গোষ্ঠী কোন্দল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সাধারণ মানুষ এদের জন্য ভুগছে। মানুষ সবই দেখতে পাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে। শাসক দল এলাকা থেকে নির্মূল হয়ে যাবে।’
