রায়গঞ্জ : শীতের সকালে কুলিকের (Kulik Chook) আকাশে ডানা মেলে পরিযায়ী পাখির দল। দূরদূরান্ত থেকে সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান পাখিপ্রেমীরা। আবার রায়গঞ্জ (Raiganj) থেকে কিছুটা দূরে বিন্দোলের ভৈরবী মন্দিরে (Bhairabi Temple) বছরভর আসেন দর্শনার্থীরা। উত্তর দিনাজপুরের পর্যটনের (Uttar Dinajpur Tourism) সম্ভাবনা বলতে গেলে এই দুই নামই প্রথম সারিতে। এবার এই দুই আকর্ষণকে সামনে রেখেই জেলার পর্যটন মানচিত্র নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। কুলিক পক্ষীনিবাসকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, ভৈরবী মন্দিরের আরও উন্নয়ন, পাশাপাশি রায়গঞ্জ ট্যুরিস্ট লজের ঘরের সংখ্যা দ্বিগুণ করা— একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা শোনালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
মন্ত্রীর বক্তব্য, পর্যটনের উন্নয়নে শুধু সরকারি পরিকল্পনা নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে কুলিক নিয়ে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও পড়ুয়াদের মতামতও নেওয়া হবে।
কুলিক পক্ষীনিবাসকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা যে যথেষ্ট, তা মানছেন মন্ত্রীও। দেশবিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের থাকার ভরসা ট্যুরিস্ট লজ। সেই লজের সৌন্দর্যায়ন করা হবে। সেজন্য বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে দিয়ে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লজের একাংশের পরিকাঠামো বেহাল। সেখানে বর্তমানে ৪০টি ঘর রয়েছে। এবার সেই ঘরের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পাশাপাশি পিপিপি মডেলে সংস্কার ও আধুনিক সুযোগসুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেজন্য বানানো হবে নতুন ভবনও। কুলিককে কেন্দ্র করে পর্যটনের প্রসার ঘটলে জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন দরজা খুলতে পারে বলে মনে করছেন মন্ত্রী।
কুলিকের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিন্দোলের ষোড়শ শতাব্দীর ভৈরবী মন্দিরও। রায়গঞ্জ থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের সংস্কারে সম্প্রতি প্রায় ৬৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। সিসিটিভি, টিনের শেড লাগানো হয়েছে। নতুন শিবমন্দির বানানো হয়েছে। মন্দিরের উন্নয়নে সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পালও একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, ‘আগামীতে ভৈরবী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অতিথি আবাস, কমিউনিটি টয়লেট, রেস্টুরেন্ট ও হোটেল বানানো হবে। ফুলের বাগান দিয়ে সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।’
প্রশাসনের এই পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী পর্যটন ব্যবসায়ীরা। রায়গঞ্জের পর্যটন ব্যবসায়ী স্বপন দাস বলেন, ‘রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাস নিয়ে ভিনরাজ্যের পর্যটকরা যথেষ্ট উৎসাহী। কিন্তু কুলিক পক্ষীনিবাস লাগোয়া এলাকায় ভালো অতিথি আবাস না থাকায় অনেকে রাত কাটাতে চান না।’ সরকারের এই পদক্ষেপে আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

