জলপাইগুড়ি: উৎসবের মরশুমে ঘনীভূত চরম দুশ্চিন্তার মেঘ। বন্ধ হয়ে গেল জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার অন্তর্গত নগর বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতাধীন অমরপুর চা বাগান (Amarpur Tea Property)। বৃহস্পতিবার কাজের উদ্দেশ্যে পৌঁছানোর পর শ্রমিকরা দেখেন, কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলছে। জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে মালিকপক্ষ “সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক” নোটিশ ঝুলিয়ে উধাও। এই ঘটনা চাক্ষুষ করা মাত্রই বাগানের কর্মীদের ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে ওঠে এবং তাঁরা কর্মসংস্থান স্বাভাবিক করতে দ্রুত বাগান চালুর দাবিতে সরব হন।
এই অচলাবস্থার নেপথ্যে রয়েছে দুর্গাপূজার বোনাস সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। উক্ত বাগানে স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় তিনশো শ্রমিকের কর্মসংস্থান যুক্ত। শ্রমিকদের অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে নির্দিষ্ট ২০% বোনাস প্রদানের পরিবর্তে তাদের হাতে ১৩.৮০% বোনাস তুলে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ বোনাস মেটানোর দাবি উঠলে দুর্গোৎসব কাটলেই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে উৎসব পর্ব মিটে গেলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি মালিকপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা এবং বাগান চত্বরে আন্দোলন শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিতে এসেই তারা দেখেন “সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক” (Suspension of labor)-এর ঝুলন্ত বিজ্ঞপ্তি, যা দীপাবলি উদযাপনের প্রাক্কালে শ্রমিক পরিবারগুলোর ঘরে ঘোর অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, বাগান প্রশাসনের টাঙানো বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, কর্মপরিবেশের অস্থিরতার কারণেই আপাতত উৎপাদন ও দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ রাখার পথ বেছে নিতে হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছে জলপাইগুড়ি উপ শ্রম আধিকারিকের দপ্তর। সূত্রের খবর, সংকট নিরসন ঘটিয়ে গতিশীলতা ফেরাতে এবং অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত বাগান পুনরায় চালু করতে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে নিয়ে শীঘ্রই এক বৈঠকের আয়োজন করা হতে চলেছে।

