উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর প্রকাশ্যে এল মূল হামলাকারী ডঃ উমর মোহাম্মদ ওরফে উমর-উন-নবীর রেকর্ড করা একটি ভিডিও। এই ভিডিওটি কার্যত উমরের গভীর সন্ত্রাসবাদী মানসিকতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিস্ফোরক বহন করার সময় দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, ভিডিওটি ইঙ্গিত করে যে, হামলাটি ছিল সুপরিকল্পিত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, শান্ত, শিক্ষিত উমরের এই কার্যকলাপ ভারতে জঙ্গিবাদের এক নতুন মুখ তুলে ধরেছে—যা অত্যন্ত শিক্ষিত, উগ্রপন্থী এবং হিসেবি।
ভিডিওতে উমরকে আত্মঘাতী বোমা হামলাকে ‘শাহাদাত অভিযান’ বলে যুক্তি দিতে শোনা যায়, যা ইসলামে নিষিদ্ধ ‘আত্মহত্যা’র ধারণার থেকে ভিন্ন। ইংরেজিতে স্পষ্ট উচ্চারণ ও যুক্তিনিষ্ঠভাবে সে বলে, “সবচেয়ে ভুল বোঝা ধারণাগুলোর মধ্যে একটি হল যাকে আত্মঘাতী বোমা হামলা বলা হয়। এটি ইসলামে পরিচিত একটি শাহাদাত অভিযান বলে।”
উমর আরও দাবি করে যে, এমন অভিযানে একজন ব্যক্তি ধরে নেয় যে, সে একটি নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে মারা যাবে। যদিও মৃত্যু বিধিনির্র্দিষ্ট, তবুও সে মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দেয়।
এই ঘটনার তদন্তে সামনে এসেছে জৈশ-ই-মোহাম্মদ (JeM) এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ-এর মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির নতুন কৌশল। তারা এখন ডাক্তার এবং উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের তাদের নেটওয়ার্কে যুক্ত করছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এই আন্তঃরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউলটি ফাঁস হয়।
তদন্তকারীরা এটিকে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে পরিচালিত বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পেশাদার সন্ত্রাসবাদী এবং শিক্ষানবিশরা কাজ করছে। একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তদন্তে একটি ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী ইকোসিস্টেম উন্মোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে পেশাদার সন্ত্রাসবাদী এবং শিক্ষানবিশরা এনক্রিপ্টেড চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশী হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।”
