উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের মূল ভূখণ্ডে পা রাখল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কেরলে (Kerala monsoon arrival replace) বর্ষার প্রবেশ নিশ্চিত করেছে মৌসম ভবন। নির্ধারিত ১ জুনের তুলনায় তিনদিন দেরিতে বর্ষার আগমন ঘটলেও, কেরলের (Kerala Rain) আকাশজুড়ে এখন মেঘের ঘনঘটা এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, আরব সাগরের উপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হয়ে লক্ষদ্বীপ এবং সমগ্র কেরল উপকূলে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কর্ণাটক (Karnataka) ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষার প্রভাব স্পষ্ট। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও বর্ষা প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাতেও বর্ষার আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবারের বর্ষার গতিপ্রকৃতি ছিল বেশ নাটকীয়। কয়েক সপ্তাহ আগে মৌসম ভবন জানিয়েছিল, ২৬ মে নাগাদই বর্ষা ঢুকতে পারে। কিন্তু সমুদ্রের ওপর পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে সেই পূর্বাভাস বদলে যায়। পরে গত সপ্তাহে আবহাওয়া অফিস জানায়, ৪ জুনের মধ্যে বর্ষা কেরলে পৌঁছাবে। সেই পূর্বাভাসই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের ওপর মেঘপুঞ্জ ঘনীভূত হওয়ায় এবং পশ্চিমা বায়ু শক্তিশালী হওয়ায় বর্ষার অগ্রগতির পথ সুগম হয়েছে। কেরলে আপাতত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তবে উত্তরের বাসিন্দাদের জন্য বর্ষার স্বস্তি পেতে এখনও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। দক্ষিণ থেকে মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে দেশের মধ্য ও উত্তর ভাগে পৌঁছায়। সাধারণত দিল্লিতে ২৭ জুনের আগেই বর্ষা প্রবেশ করে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সব কিছু অনুকূল থাকলেও উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলোতে বর্ষা জুনের শেষ কিংবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের আগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।
দাবদাহ থেকে বাঁচতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকা উত্তরের রাজ্যগুলোর সাধারণ মানুষ এখন বৃষ্টির আশায় তাকিয়ে আছে আকাশপানে। কেরলে বর্ষার পা রাখা মানেই দেশজুড়ে ঋতু পরিবর্তনের সুর বেজে ওঠা। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে বর্ষার এই গতিপ্রকৃতি বজায় থাকে কি না, নাকি ফের কোনো প্রাকৃতিক বাধার সম্মুখীন হয় মৌসুমি বায়ু।
