অনুপ মণ্ডল, বুনিয়াদপুর: বিকেলের কয়েক মুহূর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Catastrophe) কেড়ে নিল একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ। মাঠে ভুট্টা তুলতে গিয়ে বজ্রাঘাতে (Lightning) মৃত্যু হলো স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের একমাত্র শিশু কন্যার। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বংশীহারী (Bansihari) ব্লকের ব্রজবল্লভপুর বড়োগ্রাম এলাকায়।
মৃতরা হলেন বিশ্বনাথ সরকার (৩৮), তাঁর স্ত্রী পুষ্পা সরকার (৩০) এবং তাঁদের ১১ বছরের কন্যা নন্দিতা সরকার। প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবারের তিনজন মিলে নিজেদের ভুট্টা খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই কল্পনা করতে পারেননি, সেটাই হবে তাঁদের জীবনের শেষ যাত্রা। শুধু বাড়িতে অপেক্ষায় তাদের ৮ বছরের একমাত্র পুত্র সুমন। কখন বাড়ি ফিরবে বাবা, মা ও দিদি সেই অপেক্ষায় পথ চেয়ে পরিবারের শেষ প্রদীপটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকার ত্রিবন মাঠে ভুট্টা তুলতে যান তাঁরা। আকাশ তখন স্বাভাবিক থাকলেও বিকেল চারটা নাগাদ আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে যায় চারদিক। শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। মুহূর্তের মধ্যেই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
এরপরেই মাঠের একপ্রান্তে তিনজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে রশিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের তিনটি বেডে পাশাপাশি পড়ে থাকা বাবা, মা ও মেয়ের নিথর দেহ দেখে উপস্থিত বহু মানুষের চোখে জল নেমে আসে। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে কয়েক ঘণ্টা আগেও একসঙ্গে মাঠে কাজ করতে যাওয়া পরিবারটি এভাবে চিরদিনের জন্য নিঃশেষ হয়ে যাবে।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল ও গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমান বহু মানুষ। এলাকাবাসীর কথায়, বিশ্বনাথ ও পুষ্পা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা নন্দিতাও স্থানীয় স্কুলের ছাত্রী ছিল। একসঙ্গে তিনটি প্রাণহানির ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।
অপরদিকে এদিন বজ্রপাতের জেরে আরও দু’জন আহত হয়েছেন। ব্রজবল্লভপুর পঞ্চায়েত এলাকার আঙ্গারণ গ্রামের ডোমাসি সরকার (৩৭) গুরুতর আহত হন। তাঁকে রশিদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে বংশীহারী ব্লকের এলাহাবাদ পঞ্চায়েত এলাকার আজিজুর রহমান (২৪) বজ্রাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
