Kerala Meeting | জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর প্রস্তাব কেরল বিধানসভায়, প্রস্তাব সমর্থনে সায় বামেদের

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভোটের শুদ্ধতা রক্ষা ও সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন সুনিশ্চিত করতে বেনজির পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেরল (Kerala) সরকার। দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অপসারণের দাবিতে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় (Meeting) একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন (VD Satheesan)। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে—এই অভিযোগে কংগ্রেসের নেতৃত্বে গঠিত ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট সরকার এই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণের ভিত্তিতে এই প্রস্তাবে সিপিএম-সহ সমগ্র বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এবং বিজেপি বিরোধী অন্য দলগুলিরও পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত।

আসলে ভোটার তালিকায় কারচুপি ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে যে ক্ষোভ জমছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই প্রস্তাবে। বিগত বছরের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন এলডিএফ প্রশাসন দেশে প্রথমবার এসআইআর প্রক্রিয়ার অসচ্ছতার বিরুদ্ধে  ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। এবার ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসের পেশ করা নতুন প্রস্তাবে শুধুমাত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিই তোলা হয়নি, বরং এসআইআর প্রক্রিয়ার সমস্ত ত্রুটি শুধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়া প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে, কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত বর্তমান আইন রদ করে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী নতুন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিধানসভার মোট ১৪০টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন ইউডিএফ জোটের ঝুলিতে রয়েছে ১০২টি বিধায়ক পদ। প্রধান বিরোধী শক্তি এলডিএফের (LDF) নিয়ন্ত্রণে ৩৫টি আসন এবং ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে রয়েছে ৩টি আসন। গাণিতিক হিসেব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, প্রস্তাবটি অনায়াসেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাস হবে। বিধানসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর এই সংক্রান্ত নথিপত্র নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

প্রস্তাবের খসড়ায় সরাসরি নিশানা করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজকে। সেখানে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হল কমিশনের নিরপেক্ষতা, যা বর্তমানে চরম সংকটে। বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে শীর্ষপদে পরিবর্তন আনা ছাড়া গতি নেই। আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে দলিত, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পরিযায়ী শ্রমিক এবং তরুণ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে যে সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি দুর্বল করা হচ্ছে, তা রুখতেই কেরল বিধানসভার এমন শক্ত অবস্থান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *