Mallikarjun Kharge | ‘চিনকে আর ক্লিনচিট নয়!’, অরুণাচলে সংঘাত ও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে মোদিকে তীব্র আক্রমণ খাড়গের

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং চিনের (China) সঙ্গে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া বাণিজ্য ঘাটতির বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতিকে কঠোর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে কংগ্রেস (Congress)। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “চিনকে ক্লিনচিট দেওয়া যথেষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভারতের সামনে সব কিছু স্পষ্ট করতে হবে!”

চিনের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার দেশবাসীকে অন্ধকারে রাখছে বলেও তিনি তীব্র অভিযোগ তোলেন। ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-র ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ সিং কাপুর অরুণাচলের সীমান্তে একাধিক স্থানে চিনা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাত অব্যাহত থাকার কথা নিশ্চিত করার পরই খাড়গের এই প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। বিশেষ করে আপার সুবানসিরি জেলার দূরবর্তী তাকসিং এলাকায় সংঘাতের খবর এবং ওয়াচা-দামাই সীমান্ত পয়েন্টে কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের আবহে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (LAC) পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মল্লিকার্জুন খাড়গে ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান উপত্যকার মর্মান্তিক সংঘর্ষের কথা মনে করিয়ে দেন, যেখানে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপট টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, “অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেন দেশবাসীকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে?” যদিও অগাস্টের এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশ বিদ্যমান সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে সম্মত হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চিনের সঙ্গে অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খাড়গে। চিনা আমদানির ১০২ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি ১৫৫ শতাংশ বেড়ে ১১২.১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বয়ং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্বীকার করেছেন যে চিন ভারতীয় রপ্তানিতে বাধা দেয়। ২০২০ সালের মে মাসের পূর্ববর্তী টহলদারির অধিকার সম্পূর্ণ পুর্নবহাল হয়েছে কি না, তাও তিনি জানতে চান।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদির ভূমিকা নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে খাড়গে অভিযোগ করেন, একদিকে সীমান্তে সেনা সংঘাত চলছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কূটনৈতিক ফটো সেশনকে সেনা জওয়ানদের ক্ষতে “নুন ছেটানোর সামিল” বলে মন্তব্য করেছে কংগ্রেস। পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব বিরোধী দলের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছে এবং জওহরলাল নেহরুর আমলে চিনের কাছে জমি হারানোর ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়েছে। তবে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিউ ইয়র্কের এশিয়া সোসাইটিতে জানিয়েছিলেন, দু-এক বছর আগের তুলনায় ভারত-চিন সম্পর্ক কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধে সীমান্ত ও পররাষ্ট্রনীতি এখন জাতীয় রাজনীতির হট টপিক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *